ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ২৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত মা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২২

প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত মা
ছবি: সংগৃহীত

স্বামী অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ১১ মাস আগে। সংসারের হাল ধরতে কিছুদিন আগে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরব। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ছেলে। তাঁর এক সহকর্মী দেশে এসেছেন। ছেলেকে পাঠানোর জন্য কিছু ওষুধ কিনে ওই ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলেন খতেজা। কিন্তু কাজ শেষে ফিরলেন লাশ হয়ে। মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আম্মাকান্দা গ্রামে। নিহত খতেজা বেগমের বাড়ি উপজেলার খিদিরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মান্নান মৃধার স্ত্রী। খতেজা বেগমের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তাঁর একমাত্র ছেলে মো. নাঈম সৌদি আরবে থাকেন।

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খতেজা বেগমের স্বামী মান্নান মৃধা দিনমজুরের কাজ করতেন। গত বছরের আগস্টে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এরপর ধারকর্জ করে দুই মাস আগে ছেলে নাঈমকে সৌদি আরবে পাঠান খতেজা। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ছেলে। নাঈমের সহকর্মী সোবহান কিছুদিন আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার তাতুয়া গ্রামে। দুয়েক দিনের মধ্যে সোবহানের সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা জেনে তাঁর মাধ্যমে ছেলের কাছে কিছু ওষুধ পাঠানোর জন্য গিয়েছিলেন খতেজা বেগম।

তাতুয়া গ্রামে সোবহানের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন খতেজা বেগম। সন্ধ্যায় বাড়ির কাছাকাছি আম্মাকান্দা এলাকায় পৌঁছে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাস (হাইস) তাঁকে পেছন থেকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে খতেজার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে তাঁকে স্বজন ও এলাকাবাসী মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খতেজা বেগমের জামাতা মনসুর হাজী বলেন, তাঁর শ্বশুর মারা যাওয়ার ১১ মাস পর শাশুড়িও মারা গেলেন। অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি। বেপরোয়া গাড়ি তাঁকেও চাপা দিয়ে মেরে ফেলল। এটি হত্যাকাণ্ডের মতোই। অসহায় পরিবারটি এখন গভীর সমুদ্রে পড়ে গেল। ছেলের জন্য ওষুধ পাঠাতে গিয়ে নিজেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে খতেজার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত