বাবা চেয়েছিলেন বিক্রি করতে, আগুনে পুড়ে মৃত্যুই হলো শেষ পরিণতি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩২ আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৩

আশির দশকের সুপারহিট নায়িকা মহুয়া রায় চৌধুরী। তার নামে টিকিট কিনতে লাইন ধরতেন দর্শক।
চলার পথে জনপ্রিয়তা ফুলের পাপড়ির মতো বিছিয়ে থাকলেও মহুয়ার পর্দার বাইরের জীবন ছিল কাঁটা বিছানো। লোকলজ্জায় ফেলে দেন বাবা। পালক পিতা চেয়েছিলেন বেঁচে দিতে। বাধ্য হয়ে করেছিলেন বিয়ে। সেখানেও সুখ মেলেনি। অবশেষে ২৭ বছরে রহস্যজনক মৃত্যুতে মুক্তি মেলে তার।
মৃত্যুর ৪১ বছর পর মহুয়াকে বড়পর্দায় ফেরাচ্ছেন প্রযোজক রানা সরকার। নায়িকার জীবন আর মৃত্যু নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা ‘গুনগুন করে মহুয়া’। এতে নামভূমিকায় আছেন অঙ্কিতা মল্লিক। পরিচালক রাজদীপ ঘোষ। আজ ২২ জুলাই অভিনেত্রীর মৃত্যুদিনে ছবির পোস্টার প্রকাশ্যে এনেছেন প্রযোজক।
'গুনগুন করে মহুয়া' নির্মাণ করা হচ্ছে দুটি বই অবলম্বনে। এর একটি মালবিকা দাশগুপ্তের 'আগুনে ঢেকেছি মুখ'। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে মহুয়াকে নিয়ে কথা বলেছেন মালবিকা। লেখকের গবেষণা থেকে উঠে এসেছে মহুয়ার জীবনের নানা দিক।
লোকলজ্জার ভয়ে মহুয়াকে ত্যাগ করেন জন্মদাতা। পালক পিতাও দেননি পিতৃস্নেহ। চার বছর বয়সে ঠেলে পাঠান স্টুডিয়োপাড়ায়। একসময় মহুয়াকে বিক্রি করে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেন। নিজেকে বাঁচাতে অসহায় মহুয়া বিয়ে করে বসেন। স্বামীও দেননি আশ্রয়ের ছায়া। উল্টো অভিনেত্রীর পালকপিতার সঙ্গে মিলে মহুয়াকে দিয়ে নীল ছবিতে অভিনয় করানোর চেষ্টা করেন।
পাড়া-পড়শীদের চোখেও ভালো হতে পারেননি মহুয়া। তবে স্টুডিওপাড়ায় দরদী বলে পরিচিত ছিলেন। শুটিংয়ের আগে এলাকার সব কুকুরদের নিজের হাতে খাওয়াতেন। কেউ বিপদে পড়লে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। অথচ দিনশেষে প্রাপ্তির খাতা ছিল শুন্য। মৃত্যু হয় আগুনে ঝলসে।
আজও জানা যায়নি মহুয়ার মৃত্যু রহস্য। তবে লেখক মনে করেন তাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। তবে আত্মহত্যার সন্দেহকেও উড়িয়ে দেন না। তার কথায়, ‘মহুয়া আত্মহত্যা করলেও অবাক হব না। একমাত্র সন্তান গোলা তাঁর প্রাণপ্ৰিয়। তাকেও মায়ের থেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন বাবা আর স্বামী। ছেলে আজও মায়ের নাম ভুলেও উচ্চারণ করেন না!’
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










