ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

পদত্যাগের পরও যেসব সুবিধা পান সাবেক রাষ্ট্রপতি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৪

পদত্যাগের পরও যেসব সুবিধা পান সাবেক রাষ্ট্রপতি

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ; যিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

তবে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদত্যাগ করার পরও সরকারিভাবে বেশ কিছু সুবিধা পাবেন তিনি। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আমৃত্যু মাসিক অবসরভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও প্রটোকল পান।

‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’-এর ৪২ নম্বর আইন অনুযায়ী, অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে মেয়াদ শেষ করা বা পদত্যাগ করা ব্যক্তিরা এসব সুবিধা পান। এর মধ্যে মাসিক পেনশন হিসেবে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি সর্বশেষ মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পান (মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধরে)।

আইনে আছে, কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে অন্য কোন চাকরি বা পদ থেকে অবসরগ্রহণ করে সেই চাকরি বা পদ সংশ্লিষ্ট কোনো আইনের অধীন অবসরভাতা গ্রহণ করে থাকলে, তিনি এই অবসরভাতা এবং এই ধারার অধীনে প্রদেয় অবসরভাতার মধ্যে তার অভিপ্রায় অনুযায়ী যে কোনো একটি অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্য।

সাবেক রাষ্ট্রপতিদের মাসিক ভাতার পরিবর্তে চাইলে এককালীন আনুতোষিক নেওয়ারও সুযোগ থাকে। সে ক্ষেত্রে অবসরের এক মাসের মধ্যে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা না নিয়ে মারা গেলে তিনি আনুতোষিক পাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে ধরা হয়। সে ক্ষেত্রে তার মনোনীত ব্যক্তি অথবা তার উত্তরসূরিরা (স্ত্রী বা স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র বা কন্যা) আমৃত্যু এই আনুতোষিক প্রাপ্য হন।

সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রটোকল সুবিধাও পান। যেমন দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজের সহায়তার জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেন্ডেন্ট) পেয়ে থাকেন। এ বাবদ সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক খরচও পান তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমপরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সুবিধাও পান।

এছাড়া একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত বিল ছাড়, দেশের ভেতরে ভ্রমণে সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা এবং সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সরকারি যানবাহন পান সাবেক রাষ্ট্রপতিরা।

তবে এই আইনের ব্যত্যয় ঘটে, যদি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠান শেষে কেউ এমন কোনো দপ্তরে, আসন, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন, যার জন্য তিনি সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য কোন সুবিধা পান।

এছাড়া একই আইনের অধীন অবসরভাতার প্রাধিকার অর্জনের পর কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি যদি উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন অথবা অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন মর্মে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ঘোষিত হন, তাহলে তিনি এসব সুযোগ সুবিধা পাবেন না।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত