ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৮

প্রিন্ট

চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণ-হত্যায় ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণ-হত্যায় ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় স্বর্ণলতা বাসের চালক ও হেলপারসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মাথায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) সারোয়ার জাহান বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- স্বর্ণলতা বাসের চালক নুরুজ্জামান নুরু, হেলপার লালন মিয়া, বাস মালিক আল মামুন, রফিকুল ইসলাম রফিক, খোকন মিয়া, বকুল মিয়া, বোরহান, আল আমিন ও স্বর্ণলতা বাসের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল।

এদের মধ্যে তিনজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বোরহান, আল আমিন ও স্বর্ণলতা বাসের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল। এদিকে, এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার চার্জশিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাসের চালক নুরুজ্জামান নুরু, তার খালাতো ভাই বোরহান ও বাসের হেলপার লালন মিয়া তানিয়া ধর্ষণ এবং হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা তানিয়াকে বাসের ভেতর পালাক্রমে ধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে হত্যা করে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তার মৃত্যু হয়। পরে তারা তানিয়ার মরদেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে যায়। অন্য ছয় আসামি তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সহযোগিতা করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পলাতক বোরহান উদ্দিনসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে ঢাকার মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ নামের বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তিনি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তানিয়া ইবনে সিনা হাসপাতালের কল্যাণপুর ক্যাম্পাসে সেবিকা পদে কর্মরত ছিলেন। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তানিয়া ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন। এ ব্যাপারে গত ৭ মে তানিয়ার বাবা মো. গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত