ঢাকা, শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৫

প্রিন্ট

কালনা ফেরিঘাটে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

কালনা ফেরিঘাটে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাটে যাবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের নামে বেপরোয়াভাবে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে ভ্যান ও রিকশা চালকরাও রেহাই পাচ্ছে না।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফেরি ঘাট হচ্ছে কালনা ফেরি ঘাট। এই ঘাট দিয়ে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে।

কালনা ফেরিঘাটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকজন লোক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ সময় চালকদের হাতে ‘নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন’ লেখা সম্বলিত ২০ টাকার একটি টোকেন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশেই বসে আছেন কয়েকজন শ্রমিক নেতা।

ট্রাক চালক মাহাবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এ পথে যাতায়াত করতে গেলে প্রতিবারই সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের কাছে চরম নাজেহাল হতে হয়।

চাঁদা আদায়কারী মো. তবিবুর রহমান বলেন, আমি দিন মজুর হিসেবে গাড়ি থেকে নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা কালেকশন করে দেই। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।

নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক খান কালনা ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরিতে উঠা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আগে উঠা নিয়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই সিরিয়াল মতো যানবাহন উঠানো হচ্ছে। এজন্য দশ টাকা করে নেওয়া হয়।

ঘাট মালিক মঞ্জুর কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন,যারা ওপার থেকে এপারে আসেন তারা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু, ওপারে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা এগিয়ে না আসলে গুরু নিয়ে আসা লোকজন ব্যাপক চাঁদাবাজির শিকার হবেন। এটি বন্ধ হওয়া উচিৎ।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসিকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান কালনা ঘাটের পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগাড়া অংশে ব্যাপক চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে বলেন, আসলে ওপারে আমাদের কিছুই করার নাই।

তিনি বলেন, পাড় আমাদের এড়িয়ার মধ্যে হলেও ওখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করে নড়াইল জেলা পুলিশ। কাশিয়ানী অংশের চাঁদাবাজি আমরা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত