ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৪৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৪

প্রিন্ট

প্রবল স্রোত ও তীব্র ভাঙনে দৌলতদিয়া নৌরুটে অচলাবস্থা

প্রবল স্রোত ও তীব্র ভাঙনে অচলাবস্থা
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটের নৌ-পথ। এ নৌ-পথে রয়েছে ৬টি ফেরি ঘাট ও ১টি লঞ্চ ঘাট। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে ১৯টি ফেরি ও ৩০টি লঞ্চে পার হতো শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে এবং তীব্র স্রোত থাকায় প্রবল আকার ধারণ করেছে নদীর ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাঙনের কারণে ১নং ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট বন্ধসহ যাত্রী ও যনবাহন পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। ২নং ফেরিঘাটও রয়েছে ভাঙনের হুমকিতে। এরই মধ্যে ঘাট এলাকায় বসবাসরত ৬ শ পরিবার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বাকি প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার তাদের ঘর বাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার যানবাহন ও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকা দিয়ে। কিন্তু নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণন থাকায় ঘাট এলাকায় প্রচণ্ড ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে ১ ও ২নং ফেরিঘাট এবং লঞ্চঘাটে ফেরি ও লঞ্চ ভিড়তে পারছেনা। স্রোত আর ভাঙনের কারণে ১নং ঘাটের পন্টুন (যেখানে ফেরি ভিরানো হয়) সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী বলছেন, গত কয়েকদিনের ভাঙনে দৌলতদিয়ার ৩ ওয়ার্ডের প্রায় ৬ শতাধিক বসতবাড়ী নদীতে বিলিন হয়েছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আরো ৫ শতাধিক পরিবার। যে কারণে তারা বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কোনো কোনো পরিবার স্কুলের মাঠে ও রাস্তার ধারে তাদের থাকার স্থান করে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার ৫ থেকে ৬ বার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ঘর-বাড়ি ভেঙে এখন কোথায় যাবেন, বুঝে উঠতে পারছেননা তারা।

এমতাবস্থায় ভাঙন কবলিতরা অতি দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ ও সহযোগীতা কামনা করেন।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে ঘাট রক্ষার কাজ না করে শুকনা মৌসুমে কাজ করলে এতো ভাঙন হতোনা। বর্তমানে ঘাট রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা মুহূর্তের মধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে, এতে করে ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা কোনো কাজে আসছেনা। যে পরিমাণ বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পর্যাপ্ত পরিমাণ বস্তা ফেলতে হবে ভাঙন ঠেকানোর জন্য।

তবে অনেকের মতে ঘাট এলাকায় স্থায়ীভাবে কাজ করে নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে দৌলতদিয়া ঘাটের অস্তিত্বই একসময় হারিয়ে যাবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিভিন্ন জেলাসহ রাজবাড়ীতে পানি বৃদ্ধি ও চাপের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ভাঙন রোধে ৫ হাজার বস্তা বালু ফেলা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত