ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:২০

প্রিন্ট

পানি কমলেও স্রোতের তীব্রতায় ভাঙছে দৌলতদিয়া ঘাট

কাজে আসছে না বালির বস্তা
রাজবাড়ী প্রতি‌নি‌ধি

পানি কমলেও স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় ভাঙছে দৌলতদিয়া ঘাট। কাজে আসছেনা ভাঙন ঠেকাতে দেয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাম্পিং করা বালির বস্তা। স্রোতের তীব্রতায় ভাঙন স্থানে যে পরিমাণ বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে তা মুহূর্তেই নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে আর এতে ভাঙন লেগেই আছে দৌলতদিয়ার ১ ও ২নং ফেরি ঘাট, লঞ্চঘাটে।

প্রতিদিনই পানি কমলেও বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। স্রোতের তীব্রতায় পদ্মার পানি ফুলে ফেপে উঠে নিমিষেই নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে দৗলতদিয়া ঘাট ও এর আশ-পাশের এলাকা। প্রতিনিয়ত ভাঙতে ভাঙতে ১ ও ২নং ঘাট এলাকা সংকুচিত হয়ে সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। আর এতে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাটে।

ভাঙনের তীব্রতায় ১ ও ২নং ফেরিঘাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ২নং ঘাটটি বিলিন হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। ৩নং ঘাট এলাকাও হুমকির মুখে। আর এতে দেশের দ‌ক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপ‌জেলার দৌলত‌দিয়া ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌ-পথ প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে ১৯টি ফেরি ও ৩০টি লঞ্চ চলাচল করলেও মঙ্গলবার সকাল ৬দিন ধরে লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ও ফেরি চলাচল করছে ৬টি। যদিও গতকাল ৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছিল। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে পারাপার হত শত শত যানবাহন ও কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার কমেছে অর্ধেকেরও বেশি।

স্রোতের তীব্রতা বাড়ার কারণে নদী পারাপারে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগও বেড়েছে। সোমবার ৭টি ফেরি দিয়ে দৌলতদিয়া যানবাহন ও যাত্রীদের পারাপার করা হলেও স্রোতের কারণে বর্তমানে এ পথে মাত্র ৬টি ফেরি দিয়ে জরুরীভাবে পারাপার করা হচ্ছে আর লঞ্চ পারাপার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

গত ৬ দিনের ভাঙনে এরই মধ্যে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকায় বসবাসরত হাজারেরও বেশি পরিবার নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

অবশিষ্ট ঘাট এলাকার ৪ থেকে ৫ শ পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে বিভিন্ন স্থানে (রাস্তার ধারে, মাঠে) সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নিঃস্ব পরিবার গুলো কোন রকমে জীবনযাপন করছেন। পদ্মার ভাঙনের সাথে না পেরে চলে যাচ্ছেন ভিটে মাটি ছেড়ে।

আরিচা-দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে যখন ভাঙন শুরু হয় তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে ভাঙন রক্ষায় একত্রে কাজ করেছে এবং ভাঙন রোধ করতে পেরেছিলেন। এ বছরও একত্রে কাজ করা দরকার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত