ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৩

প্রিন্ট

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল

২৪ ঘণ্টায় দুই প্রসূতির মৃত্যু, প্রতিবাদে মানববন্ধন

২৪ ঘণ্টায় দুই প্রসূতির মৃত্যু, প্রতিবাদে মানববন্ধন
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

জানা যায়, জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর গ্রামের জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে লিমা চৌধুরীর প্রসব বেদনা নিয়ে গত সোমবার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। পরে গত মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের গাইনি কনসালটেন্ট ডা. জান্নাত আফরোজ নূপুর অস্ত্রোপচার করেন। প্রসূতি লিমা ছেলে সন্তান জন্ম দেন। বিকেল তিনটার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও আয়াদের বিষয়টি জানানো হয়। এ সময় তারা প্রসূতির বাবার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় নার্সরা সেবা দিতে টালবাহানা শুরু করে। একাধিকবার বলার পর প্রসূতির বাবা জিয়া উদ্দিন চৌধুরীকে গালাগাল করে। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে উদ্যত হয়।

এ ঘটনায় প্রসূতির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স হাসপতালে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. কল্যানী রানী ঘোষকে জানানো হয়। তিনি ওয়ার্ডে আসতে দেরি হয় এরি মধ্যে প্রসূতি লিমা চৌধরীর মৃত্যু হয়।

এদিকে এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে পর ইয়াসমিন আক্তার (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন প্রসূতির স্বজনরা। গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ইয়াসমিন আক্তার নেত্রকোনা পৌর শহরের দক্ষিণ কাটলী এলাকার বাসিন্দা লোকমান মিয়ার স্ত্রী।

জানা গেছে, ইয়াসমিন আক্তার গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) প্রসব ব্যথা নিয়ে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ওইদিন দুপুরের দিকে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও গাইনি সার্জন রঞ্জন কুমার কর্মকার তার অপারেশন করেন। পরে তার পালস্ (স্পন্দন) কমতে থাকলে এবং অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই বুধবার বিকালের দিকে ইয়াসমিন আক্তার মারা যান।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের সামনের সড়কে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এতে বক্তব্য রাখেন পৌর কমিশনার হেলাল উদ্দিন শেখ, নেত্রকোনা নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক খানে আলম খানসহ রোগীর স্বজনরা তারা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন তাজুল ইসলাম খান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘মৃত্যুর ঘটনায় কারও অবহেলা ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লিমা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত