ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:২০

প্রিন্ট

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আম বাগান

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আম বাগান
মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আম বাগান

শাকিলা ইসলাম জুঁই, সাতক্ষীরা

ঋতুরাজ বসন্তের আগেই মধুমাসের আগমনী বার্তা সাতক্ষীরা জেলার সর্বত্র আম চাষিদের উদীপ্ত করে তুলেছে। ফলের রাজা আমের মুকুল ফুটেছে গাছে গাছে, প্রতিটি ডালে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। বসন্তের আগমনে আমগাছের শাখাগুলো ভরে গেছে উজ্জ্বল সোনালী মুকুলে, যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে গাছগুলো। চারদিকে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার আমবাগান।

আম চাষি ও বাগান মালিকরা বলছেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে বাগানের গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে।

বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষে সংশ্লিষ্ট সকলে। জেলার বিখ্যাত উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে আম অন্যতম। স্বাদ ও গন্ধের কারণে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এ জেলার আম। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে অনেক আমবাগান। বিগত ৮ বছর আগে থেকে এ জেলার আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ ও বেড়েছে। মধ্য মাঘে আমের আগাম এই মুকুল আমচাষিদের মনে জাগিয়েছে আশার আলো।

এ অঞ্চলের আমের মধ্যে প্রসিদ্ধ গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ প্রায় শতাধিক জাতের আম। তাই বাগান মালিক ও আমচাষীরা মাঘের শুরু থেকেই বাগান পরিচর্যায় শুরু করে।

সাতক্ষীরা সদরের দহাকুলা গ্রামের আম বাগান মালিক কাওছার আলী জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করছি। কর্মকর্তারা বাগানে এসে আমের ভালো ফলন পাওয়ার বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্য মতে জেলায় ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে এবার ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে ১৩ হাজার একশ আম চাষি রাতদিন বাগান পরিচর্যা আম সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা সদর ১২৩৫ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭১৫ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮২৫ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর, শ্যামনগর উপজেলায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগানে আম উৎপাদিত এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলার কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম তিনটি পর্যায়ে আমের মুকুল আসে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সব গাছে মুকুলে ভরে যাবে। জেলায় গত বছর আম্ফানের কারণে ব্যাপকভাবে আমের ক্ষতি হয়েছে এবার সে ক্ষতি পুসিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আমচাষীরা। আমচাষের জেলা রাজশাহী হলেও সুস্বাদু আমের জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার সুনাম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে বিস্তার লাভ করেছে।

এখানকার মাটি ও আবহাওয়ার গুণেই গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগ, লেংড়া, বোম্বাই, আম্রপালি ইত্যাদি জাতের আম খুবই সুস্বাদু। দেশব্যাপী সাতক্ষীরার আমের চাহিদা থাকায় নতুন নতুন উদ্যোগতা উন্নত জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি আরো বলেন নিয়মিত যত্ন নিলে আমের অফ ইয়ার বলে কিছু থাকে না। জেলায় এ বছর ১১০ হেক্টর জমিতে রপ্তানিযোগ্য বিষমুক্ত নিরাপদ আম চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা সরাসরি বাগান থেকে প্যাকেট করে ইউরোপে যাবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত