ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

বিদ্যুতের দাম: বিইআরসির ভাষ্য ভর্তুকি বাড়ছে, ক্যাব বলছে মানুষের কথা ভাবুন

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১৭:৪৯

বিদ্যুতের দাম: বিইআরসির ভাষ্য ভর্তুকি বাড়ছে, ক্যাব বলছে মানুষের কথা ভাবুন
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বুধবার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানির প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে গণশুনানিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির প্রস্তাবের বরাত দিয়ে বিইআরসি বলছে, পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো না হলে এ খাতে সরকারের ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে ক্যাব বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করে বলেছে, সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে, তার কোনো খেয়াল নেই।

পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার ওপর দুই দিনের গণশুনানির প্রথম দিন ছিল বুধবার। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণশুনানির প্রথম অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

বিদ্যুতের বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি দিতে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় আনুপাতিক হারে অনেক বেশি। এই ইনস্টল ক্যাপাসিটি বেশি হওয়ার কারণে, ওই যে বসিয়ে খাওয়ানো; যেহেতু বসা আছে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে।”

স্থাপিত সক্ষমতা ‘আদর্শ মাত্রায়’ থাকলে ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ কম হত বলেও মনে করছেন তিনি।

পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ ২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিদ্যমান বাল্ক ট্যারিফে বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।

এ হিসাবে রাজস্ব চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১২ টাকা ৯১ পয়সা। এই হারে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

পিডিবি তাদের প্রস্তাবে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা অথবা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর কথা বলেছে।

তাদের মতে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বেশি।

পিডিবির প্রস্তাব নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি বাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির নিট রাজস্ব চাহিদা ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বা প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ৫১ পয়সা। বিদ্যমান পাইকারি দরে ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ভর্তুকি ছাড়া এই ঘাটতি পূরণ করতে পাইকারি মূল্যহার প্রায় ৭৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন হবে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান বলছেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের প্রয়োজন হত না। তার ভাষ্য, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গেলে, তা আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যেত।

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। পিডিবিতে যারা কাজ করেন, যারা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে যেটা বুঝি এটা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভোক্তার ওপর চাপও কমে আসবে।

“আমরা সৌর বিদ্যুৎকে যদি উৎসাহিত করি, ভবিষ্যতে যদি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন যদি বৃদ্ধি পায়, নিঃসন্দেহে আপনার অধিকতর খরচ যেখানে হচ্ছে, সেটা কমে আসবে।”

শুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, “মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি কোথা থেকে দেয়? ভোক্তার টাকা দিয়েই কিন্তু ভর্তুকি দেওয়া হয়। সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে, তার কোনো খেয়াল নেই।”

বিইআরসিকে সতর্ক করে মিজানুর রহমান বলেন, “আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা একসময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।”

এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য ২৩ মে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।

দুই দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে শুনবে কমিশন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত