উন্নয়নযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি চীনের
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৮:৫৪

বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চীন পাশে থাকবে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট শি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় চীন একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের এই বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব সাময়িক নয়, বরং তার নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে এটি হবে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা ও পাশে থাকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের উন্নয়ন-ভাবনার প্রশংসা করেছেন এবং তার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
হুমায়ুন কবির বলেন, ব্রিকসে যোগদান এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)’ নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং, যা বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।
চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকের আগে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্যচি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান।
সেই বৈঠকের কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের তৃতীয় প্রভাবশালী নেতা তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, চাও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন চীনা নেতা।
হুমায়ুন কবির বলেন, চাও ল্যচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এমন একজন ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার সঙ্গে চীন আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
চাওকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করলে তারা বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এ থেকেই বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক সফরকে চীনের নেতৃত্বের সব স্তরে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে,বলেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, চীনা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলো থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ আসতে পারে। বিনিয়োগের পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ ও অনুদান নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বজুড়ে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এর মধ্যেও চীন ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সফরের সার্বিক মূল্যায়নে তিনি একে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘রূপান্তরমূলক’ বলে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সফর শুধু ঐতিহাসিকই নয়, এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, বাংলাদেশের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে তার ভাবনা বিশ্ব নেতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
তিনি বলেন, চীন সফরটি ভবিষ্যতে এমন একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখান থেকে বাংলাদেশ অঞ্চল ও বিশ্বের বুকে আরও ‘ইতিবাচক ও শক্তিশালী’প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৭টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।
এরপর শুক্রবার গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। তাদের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি দুই নেতা একান্তেও কথা বলেন।
পরে তিয়াওইউথাই হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে বৈঠকের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনীতির ‘ব্যাপ্তি বাড়াতে’ বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর করার প্রস্তাব আবারো সামনে এনেছে বেইজিং।
দুই নেতার বৈঠকে ‘কানেক্টিভিটি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করা যায়, সে প্রস্তাব এসেছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










