ইরানে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় মোদীকে আমন্ত্রণ
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২২:৪৯

মৃত্যুর চার মাস পর নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান রাষ্ট্র্রীয় মর্যাদায় করতে চলেছে ইরান। আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইরান আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
সরকারি কয়েকটি সূত্রের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোদীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পদক্ষেপকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি তেহরানের ওপর সামরিক হামলা শুরুর প্রথম দিনই নিহত হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই শুরু হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণের পবিত্র শহর কোমে বিশেষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের তার নিজ শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
খামেনির শেষকৃত্য-পর্বে হাজির থাকার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অনুরোধ জানিয়েছেন বলে সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে।
ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মোদী এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইরান সফরে যান কি না সেটি দেখার বিষয়।
ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত মৃতদেহ যত দ্রুত সম্ভব, বিশেষ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধাবস্থার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম করার সুযোগ রয়েছে।
খামেনির শেষকৃত্যের সময়সূচি নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই নানা গুঞ্জন চলছিল; রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাইয়ের সূচি নিশ্চিত করার আগে জুনের শেষের দিকে এই শেষকৃত্য হতে পারে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছিল।
তেহরান, মাশহাদ ও কোমে অনুষ্ঠেয় খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রায় ২ কোটি শোকাহত মানুষের সমবেত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যদি ধারণানুযায়ী জনসমাগম হয়, তবে এটি ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া ১ কোটি মানুষের উপস্থিতির ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ভেঙে দেবে।
ইরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর, গত ৮ মার্চ তার ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মুজতাবা হোসাইনি খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক রহস্য এবং গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। মার্কো রুবিও এবং পিট হেগসেথসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মুজতাবা খামেনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোমায় রয়েছেন।
এমন এক সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ইরানের এই আমন্ত্রণ দেওয়ার খবর এল, যখন বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে শুরু করেছে।
কয়েক মাস ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত এবং বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আলাদাভাবে ভার্চুয়ালি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










