ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৪৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

সংসদে হাসনাত বসুন্ধরা মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলেন

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১:৩৬

সংসদে হাসনাত বসুন্ধরা মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলেন
ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার অগ্রগতি জাতীয় সংসদে জানতে চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বসুন্ধরার সঙ্গে সরকারের কোনো ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও করেছেন তিনি।

যাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, মানুষের সম্পদ দখল এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে ‘গুম-খুন-হত্যাকে বৈধতা’ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলের এই নেতা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলার কী অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই।”

তিনি বলেন, “আমরা জানতে চাই, আন্ডারটেবিল কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়, সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

‘তাদের খুঁটির জোর কোথায়’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত অর্থনীতির শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী জোটের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সেখানে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যারা টাকা পাচার করেছে, তারা সদর্পে এখন গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি, এই দেশে এখন বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে।”

বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তুলে ধরে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র (বসুন্ধরা চেয়ারম্যান) সোবহান দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। আমরা দেখেছি আনভীর দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ‘ধর্ষক’ দেশে ঢুকেছে।”

তিনি বলেন, “এই বসুন্ধরা গ্রুপ, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে যারা আওয়ামী লীগের গুম, খুন, হত্যার বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই।”

‘সরকার দলের কেউ কেউ বসুন্ধরার অ্যাডভাইজর’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা শুনতে পাই, বললে অনেকে রাগ করে।”

এ পর্যায়ে অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্য আপনার সময় শেষ হয়ে গেছে, তারপরও চিফ হুইপ মহোদয় অনুরোধ করেছেন, আরো তিন মিনিট বাড়ানো হল।”

সভাপতিকে ধন্যবাদ দিয়ে এনসিপির এই সদস্য বলেন, “আমরা শুনতে পেয়েছি, বা দেখতে পাই এবং সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন যে, ‘আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সঙ্গে আমরা থাকতে পারি নাই; কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করে’।

“তাদের মিডিয়ার অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

বসুন্ধরার গণমাধ্যম নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যে মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে ‘ফ্রেমিং’ করেছে, সেই মিডিয়ার অ্যাডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে, আজকে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত।”

“এটা আমাদের জন্য না, বরং তাদের সহকর্মীদের জন্য এটি তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, সেটি আমরা জানি।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত