ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ১৯:৫৬

প্রিন্ট

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট

ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে

ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে
মৃত্তিকা সাহা

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে আয়ের তুলনায় ব্যয়হার বেশি হওয়ায় ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করা হয়। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে এবার আয়ের তুলনায় ব্যয় আরো বাড়বে। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও বাড়বে। আর এই বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংকঋণের উপরেই বেশি নির্ভর করতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। ফলে একদিকে যেমন আয়ের তুলনায় ব্যয় আরো বাড়বে, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ এবং সাহায্যেও পরিমাণও কমে যেতে পারে। আর বাজেটের এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংকঋণের উপরেই বেশি নির্ভর করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এবার করোনা সংকটের কারণে আয়ের তুলনায় ব্যয় আরো বেশি হবে। রাজস্ব আদায় এমনিতেই কম। সামনে আরো কমার আশংকা রয়েছে। সে তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বাড়বে। কারণ দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তার জন্য সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে। অর্থাৎ সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে সরকারকে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় করতে হবে। ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণও অনেক বেশি বেড়ে যাবে। আর এই ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকঋণের উপর খুব বেশি নির্ভও করা ঠিক হবে না। কারণ এমনিতেই ব্যাংকঋণের উপর নির্ভও কওে সরকার অনেক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আর এমনিতেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। সামনে এর পরিমাণ আরো কমবে। কেননা অধিকাংশ মানুষের আয় কমে গেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশংকায় মানুষ সঞ্চয়পত্রেও খুব বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থাৎ নোট ছাপিয়ে ঘাটতি মেটাতে হবে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক সাহায্যের উপরও বেশি জোড় দিতে হবে।

একই বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতির তুলনায় বাজেটের আকার খুব বেশি বড় না। তবে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় বলেই আমাদের দেশে বাজেট বাস্তবায়ন হয় না। বরাবরের মতো এবারও প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। কোভিড-১৯ এর কারণে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, দারিদ্র বিমোচন এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার- এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন কোন উদ্যোগ নেই। গতানুগতিক কাঠামোর মধ্যেই রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। যা কখনোই আদায় করা সম্ভব হবে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। ঘাটতি মোকাবেলায় টাকা ছাপানোর প্রয়োজন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবাস্তব চিন্তা করা ঠিক না। প্রয়োজন হলে তো টাকা ছাপাতেই হবে। দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার প্রয়োজনে যদি টাকা ছাপাতে হয় তাহলে তো তা করতেই হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ৩ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছিল। আগামী বাজেটে ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ অঙ্ক বেড়ে হচ্ছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। ঘাটতি মেটানো হয় সাধারণত দেশি-বিদেশি ঋণ ও সঞ্চয়পত্র বিক্রির টাকা থেকে।

আগামী অর্থবছরে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা থাকছে ঋণ পরিশোধ বাবদ। ফলে ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান ধরে নিয়ে নিট বিদেশি ঋণের হিসাব দাঁড়াচ্ছে ৭৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা থাকলেও অর্থবছর শেষ হওয়ার এক মাস আগেই সরকার তার প্রায় দ্বিগুণ নিয়ে ফেলেছে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে চলতি অর্থবছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সরকার এ খাত থেকে শেষ পর্যন্ত নিতে পারবে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে তাই ২০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best