যেভাবে নিয়েছিলাম সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি
সৈকত তালুকদার
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:১১

যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সাধারণ জ্ঞান জানার বিকল্প নাই। কারণ সকল পরীক্ষাতেই এই অংশের জন্য ভালো একটা নম্বর বরাদ্দ থাকে। তাছাড়া সাধারণ জ্ঞানে শক্ত দখল থাকলে আপনি সাধারণ জ্ঞান অংশ ছাড়াও বাংলা রচনা, ইংরেজী রচনা ইত্যাদিতে অনেক ডাটা যুক্ত করতে পারবেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। তাই সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিই আজকের লেখার বিষয়। অন্যান্য লেখার মত এবারের লেখারও শুরুতেই জেনে নিন সাধারণ জ্ঞানে আমি কেমন ছিলাম।
১. আমি তখন ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ি। আপনাদের এলাকায় এরকম প্রচলন ছিল কিনা জানিনা, আমাদের এলাকায় শীতের সকালে রোদের মধ্যে ছেলে-মেয়েরা লাইন করে পাটি বিছিয়ে লেখাপড়া করত। কয়েকজন মুরুব্বি রোদ পোহানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া দেখতো আর মাঝে মাঝে এটা সেটা নিয়ে প্রশ্ন করতো। যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করতো, সেগুলো মোটামুটি সবই ছিল সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। আমি বরাবরই সেগুলো পারতাম না। ফলে অনেকে উপহাস করতো।
২. এসএসসির পর চিন্তা করলাম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কিছু সাধারণ জ্ঞান পড়তে হবে। কিন্তু তখন জিপিএ এর উপর ভিত্তি করে ভর্তি শুরু হলো। সাধারণ জ্ঞানে যে কাঁচা সেই কাঁচাই থেকে গেলাম।
৩. ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় পরিবার থেকে সাইন্সের কোন সাবজেক্টে পড়ানোর আগ্রহ থাকলেও আমার চিন্তা ছিল আমি সাইন্সে পড়ব না। তাই ইউসিসি কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে কিছু সীট ক্রয় করলাম। পড়তে দেখি মজাই লাগে। তারপর একই জায়গা থেকে অনেক সীট ও হাইলাইটস ক্রয় করলাম। এসব করে কোনরকম ভার্সিটিতে চান্স পেলেও তখনও আমার ধারণাই ছিল না যে বাজারে সাধারণ জ্ঞানের জন্য অনেক বই আছে। সীট না কিনে আমি তো বই-ই কিনতে পারি। বুঝেন অবস্থাটা! সেদিন রোদের মধ্যে যারা মুরুব্বিদের বিভিন্ন বিষয়ে করা প্রশ্নের উত্তর ফটফট করে দিতো, তাদের চেয়ে আজ আমি খারাপ অবস্থায় নাই। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে সাধারণ জ্ঞানের অনেক কিছুই জানার জন্য তাঁরা এখন আমার কাছে ফোন করে। কিভাবে আমি এই অবস্থানে আসলাম, এখন তার ফিরিস্তিই দিচ্ছি...
১. ভার্সিটিতে থাকাকালীন সর্বপ্রথম প্রফেসরস প্রকাশনীর নতুন বিশ্ব নামের একটা সাধারণ জ্ঞানের বই কিনলাম ও পড়লাম। সেটা দিয়েই বইয়ের মাধ্যমে আমার সাধারণ জ্ঞানের হাতেখড়ি। যারা অনেক অনেক জানতে চান তাঁরা বইটা কিনতে পারেন।
২. বইটা পড়ার কিছুদিন পরেই জানলাম বাজারে MP3 নামের একটা বই আছে। সেটাও কিনলাম ও পড়লাম। সংক্ষেপে সাধারণ জ্ঞান জানা বা পরীক্ষায় কমন পাওয়ার জন্য বইটার বিকল্প নাই।
৩. সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একত্রে গোছানোভাবে জানার জন্য প্রতি মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়তাম। সাম্প্রতিক তথ্য ও রিয়েল প্রশ্ন সমাধান ছাড়া এই বইয়ের অন্যান্য যা কিছু যেমনঃ মডেল টেস্ট, সাজেশন ইত্যাদি কিছুই পড়তাম না।
৪. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সহজে জানার জন্য আরিফ খান লিখিত সহজ ভাষার সংবিধান বইটি পড়েছি। এখন পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয় সংবিধান সহজে জানার জন্য এই বইটাই সবচেয়ে ভালো।
৫. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বইটি পড়েছি। এই বইটা থেকে সঠিক ডাটা পাওয়া যায়। যেগুলো কোন লেখার মাঝে ঢুকিয়ে দিলে লেখাটা উন্নতমানের হয়। তাছাড়া ভাইভা বোর্ডে বিভিন্ন তথ্যের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায় বইটি।
৬. দৈনিক পত্রিকা পড়েছি। পত্রিকা পড়তে আমার কেন জানি ভালোই লাগত। যখনই চাকরির পড়ালেখা করতে ভালো লাগত না তখনই পত্রিকা হাতে নিতাম।
৭. বিসিএস রিটেনের জন্য অ্যাসিওরেন্স প্রকাশনীর সাধারণ জ্ঞানের বইটি পড়েছি। বইটা আমার ভালোই লেগেছে। পরবর্তী লেখা আসছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে, ভালো থাকুন, লেখাপড়া করুন।
লেখক: ৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও সিনিয়র অফিসার, বিকেবি










