ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২১, ১৬:৫১

প্রিন্ট

শুভ জন্মদিন তিতুমীর কলেজ

শুভ জন্মদিন তিতুমীর কলেজ
সরকারি তিতুমীর কলেজে। ছবি: নয়ন ওয়াদুদ

মামুন সোহাগ

রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত সরকারি তিতুমীর কলেজের আজ শুভ জন্মদিন। ৫২ বছরের গৌরবের পথ পেরিয়ে ৭ মে (শুক্রবার) ৫৩ বছরে পা দিলো এশিয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী খ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটি।

৬৫ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে এ ক্যাস্পাস। প্রতিষ্ঠার সময় কলেজটিতে শুধু উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া হতো। তবে বর্তমানে এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষাকার্যক্রম চালু রয়েছে।

‘জিন্নাহ কলেজ’ নামে ১৯৬৮ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান জগন্নাথ কলেজের ছাত্র-আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য মহাখালীতে অবস্থিত ডিআইটি খাদ্যগুদাম হিসেবে পরিচিত ভবনে জগন্নাথ কলেজের ডিগ্রি শাখা স্থানান্তর করেন এবং এর নামকরণ করা হয় জিন্নাহ কলেজ।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান রেডিও-টেলিভিশনে এক ভাষণে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্থগিত ঘোষণা করেন। সেসময় সাথে সাথে জিন্নাহ কলেজ শাখার ছাত্র সংসদের প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বে টিপু মুনশি ও শাহাবুদ্দিনসহ তৎকালীন কতিপয় ছাত্রনেতা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিন্নাহ কলেজের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন আনিসুজ্জামান খোকন (জিন্নাহ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক) জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ প্রস্তাব করেন।

২ মার্চ ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জড়ো হলে সেখানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রবের মধ্যস্থতায় জিন্নাহ কলেজের নাম ‘তিতুমীর কলেজ’ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। ঐ রাতেই ‘তিতুমীর কলেজ’ নামকরণের সাইনবোর্ড লেখা হয় এবং দেয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার কিছু যুবক তিতুমীর নামকরণের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

বর্তমানে কলেজটিতে ২২টি ডিপার্টমেন্টে সর্বমোট ৬৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ২১০ জন। সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলেজে রয়েছে তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি, ফটোগ্রাফি ক্লাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, নাট্যদল, শুদ্ধস্বর, আদিবাসী সংগঠন, সেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন, ক্যারিয়ার ক্লাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও বির্তক ক্লাব ।

এখানকার বরকত মিলনায়তন, ছাত্র সংসদ, গোলচত্বরগুলো থেকে তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর শাণিত কথার ঝলসানি লাগা সতেজ ভাষণ উদ্বেলিত করে ক্যাস্পাসের গোটা ছাত্র সমাজকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে বহু জ্ঞানী-গুণী মানুষ। শিক্ষার্থীরা গোল চত্বরে এসে গল্প-গানের আসর জমায়। হরেক রকম চায়ের কাপে চুমুক দেয় শাকিল চত্বরে।

বর্তমানে পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাইকে একটি স্বপ্নের তিতুমীর কলেজ উপহার দিতে চাই।প্রতিষ্ঠাকালের তিতুমীর কলেজ থেকে আজকের তিতুমীর কলেজ অনেক উন্নত। এরইমধ্যে কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছি। আমাদের দুটি নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে। এটি হলে আমাদের ক্লাসরুম সংকট দূর হবে। নতুন হল হয়েছে, নতুন বাস পেয়েছি। তিতুমীর কলেজ রাজধানীর মধ্যে একটি মডেল হবে আশা করি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত