ঢাকা, রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২০, ১৫:৫০

প্রিন্ট

পরিবার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বললেন আসিফ

পরিবার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বললেন আসিফ

Evaly

বিনোদন ডেস্ক

করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের নাম। দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। ধারণ করছে মহামারীরূপে। সবাই এখন ঘরবন্দী, কেউবা রয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরও।

এই করোনায় পরিবারের সাথে ঘরবন্দী সময় কাটাচ্ছেন আর প্রতি মুহূর্তে সবাইকে সচেতন করে যাচ্ছেন প্রাণঘাতী ভাইরাসটি সম্পর্কে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন কিছু মুহূর্ত কাটানো নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন এ গায়ক।

সেখানে তিনি লিখেন, ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া আমাকে সাতদিনের বেশী ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। সন্ধ্যার পর কোন দাওয়াত থাকলে খুব অস্বস্তিতে থাকি। আমার ভাইবোনরাও সন্ধ্যার পর কোন ফ্যামিলি গেটটুগেদার রাখেনা আমার যন্ত্রনায়। আমি সবসময় আমার নিজের একটা বলয়ের মধ্যে থেকেছি।

সন্ধ্যার পর কোথাও গেলেও দ্রুত চলে আসার চেষ্টা করি। যারা আমাকে কাছ থেকে চেনেন তারা এই কালচারে অভ্যস্ত।আমাদের রুটিনবিহীন জীবনে রিজিকের দৌড়ঝাঁপে মাঝেমধ্যে খুব পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ি, রাত নয়টা দশটা বেজে যায় বিছানা ছাড়তে। বেগম বাসায় ছেলেদের এলান করে দেয় আজ তোমার বাবা অফিসে ( স্টুডিও) যাবেনা। রণ রুদ্র হাসে, তারা জানে একটু চাঙ্গা হলেই বেরিয়ে পড়বে বাবা।

তিনি আরও লিখেন, গতকাল বেগমের মন খুব খারাপ থাকায় আমরা চেষ্টা করছিলাম তাকে চিয়ার-আপ করার জন্য। সবাই লক্ষ্মী ছেলের হয়ে ওর কথামতই চলেছি, মেজাজ খারাপ করার সুযোগই দেইনি। রণ রুদ্র আমার ইশারা বোঝে। মা’কে আর যন্ত্রনা দেয়ার চেষ্টাই করেনা কারন তারা জানে আমি পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্য সঠিক পদ্ধতিই অবলম্বন করবো।

রণ রুদ্র’র সাথে সারাদিন এটা সেটা নিয়ে বেগমের কাহিনী চলতে থাকে। আমি শুধু অবজার্ভ করি, প্রয়োজনে মাথা ঢুকাই।আজকালকার পোলাপানের তুলনায় আমরা গার্ডিয়ানরা যে স্লো এটা বেগম বুঝতেই চায়না যতক্ষন না আমি বুঝাই। যখন আমার উপরে ক্ষ্যাপে তখন তিনজনই চুপ হয়ে যাই। আমার আম্মা এসব ব্যাপারে যথেষ্ট টনটনে স্মার্ট ছিলেন, বেগম সেই তুলনায় একটু কম মেজাজী, অভিমানী বেশী।

পরিবারকে শ্রেষ্ঠ দাবী করে তিনি লিখেন, এসব কথা লিখার কারন হচ্ছে পরিবার সম্বন্ধে একটু ধারনা দেয়া। পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখান থেকে লদ্ধ জ্ঞান নিয়েই দুনিয়ায় চলতে হবে। করোনার কারনে অনেকদিন পর বাসায় আমরা একসাথে ডিনার করলাম। রণ বলেছে যতদিন এই ক্রাইসিস থাকবে, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে আমরা একসাথেই দিনেরাতে খাবো। ব্যাপারটা আমারো ভাল লেগেছে, আমিও ভবিষ্যতে চেষ্টা করবো পরিবারের সাথেই খাবার খেতে।

ছেলেদের সাথে বেগমের লেগে যায়, লিমিট ক্রস করলেই তাদের পুরনো আদেশ মনে করিয়ে দেই। তোমাদের মায়ের সাথে যা খুশী তর্ক করো, আমার বউয়ের সাথে বেয়াদবী করা যাবেনা। এভাবেই আমরা আগলে রাখবো আমাদের পরিবার। অন্যথায় অশিক্ষা কুশিক্ষার সন্তান বাবা মা পরিবারের মর্যাদা বুঝবেনা। যতই দিন যাবে পরিস্থিতি করুন থেকে করুনতর অবস্থায় যেতে থাকবে। এই অভিশপ্ত নাগপাশ থেকে মুক্তি মিলবে না প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত