ঢাকা, বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ২৪ মিনিট আগে

অনন্ত জলিলের দাবি

নারীর পোশাকই ধর্ষণের জন্য দায়ী

  বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২০, ১৬:০৩  
আপডেট :
 ১১ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৩৮

নারীর পোশাকই ধর্ষণের জন্য দায়ী
বিনোদন ডেস্ক

বেশ কয়েকদিন ধরেই দেশে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে নারী নিরাপত্তা ও ধর্ষণ বিষয়টি। এ নিয়ে পুরো দেশবাসীই উত্তাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারাও সোচ্চার হয়েছেন।

এমন সময়ে ধর্ষণ নিয়ে চলমান প্রতিবাদ-আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলে বিপাকে পড়েন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়ক অনন্ত জলিল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে দেশের নারীদের পোশাককেও ধর্ষণের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

তার মতে, শালীন পোশাক পরা নারী কখনোই ধর্ষণের শিকার হয় না। পোশাক ভালো না হলে তার শরীর-ফিগার দেখে বাজে স্বভাবের লোকজন ধর্ষণের উস্কানি পায়।

তার এই মন্তব্যকে ঘিরে চলছে সমালোচনা। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে অনন্ত জলিলের বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে নিজেদের ক্ষোভ জানাচ্ছেন। অনেকে আবার বলছেন, অনন্তই সঠিক। দেশে নারীদের আরও পর্দায় থাকা উচিত, শালীন পোশাক পরা উচিত।

৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে অনন্ত জলিল বলেন, ‘তোরা পুরুষ? নিজেদের বীরপুরুষ ভাবিস? তোরা কাপুরুষ। তোদের সামনে যদি তোদেরই স্ত্রী-কন্যাকে রেপ করা হয় তাহলে কেমন লাগবে? এই যে ধর্ষণ করে সারাদেশে আন্দোলন-প্রতিবাদের জন্য একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এটা দেখে কী খুব হাসি আসছে? তোর বাবা-মাকে মানুষ কি বলে? একবার ভেবে দেখ তোর জন্য, তোদের জন্য মা জাতি আজ দেশে কলঙ্কিত।’

এসময় তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের ভাই হিসেবে কিছু কথা বলতে চাই। নাটক, সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনুসরণ করে অন্য দেশের মেয়েদের মতো মডার্ন হতে গিয়ে, বিদেশি সংস্কৃতির পোশাক পরছো। এসব পোশাকের জন্য রাস্তার বখাটেরা আল্লাহর দেয়া তোমার চেহারাটার দিকে না তাকিয়ে তারা তোমার শরীর ও ফিগারের দিকে নজর দেয়। তোমাদের পোশাক দেখেই তারা তোমাদের ফিগার নিয়ে নানা কথা বলে। আর তাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথাগুলো আজ তিতা মনে হতে পারে। খুব তিতা। কারণ এর আগে আমি কখনোই এ ধরনের কথা বলি নাই। কিন্তু এগুলো সবই সত্যি কথা। কেন এ ধরনের ড্রেস পরতে হবে? এগুলো কি মডার্ন ড্রেস, নাকি অশালীন ড্রেস? মডার্ন হলো শুধু তোমাদের চেহারাটা দেখা যাবে যা আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন। আর বাকি শরীর সব ঢেকে রাখতে হবে। ছেলেদের মতো একটা টি শার্ট পরে রাস্তায় বের হয়ে যাও। খুব মডার্ন তুমি। নিজেকে অনেক মডার্ন মনে করো। তারপর ইজ্জত হারিয়ে বাসায় যাও। হয় আত্মহত্যা করো নয়তো কাউকে আর মুখ দেখাতে পারো না। শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে, যারা ধর্ষণের চিন্তা ভাবনা করে তারাও তোমার দিকে তাকাবে না। সম্মান করবে। মাটির দিকে তাকিয়ে চলে যাবে।’

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আইন চালু করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধও জানান অনন্ত জলিল।

আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত