ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩৪ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৫২

প্রিন্ট

৭১ পেরিয়ে কিংবদন্তি নায়ক আলমগীর

৭১ পেরিয়ে কিংবদন্তি নায়ক আলমগীর
চিত্রনায়ক আলমগীর

বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী নায়ক আলমগীর আজ ৩ এপ্রিল ৭১ বছর পূর্ণ করছেন। গতবছর এই দিনে যখন তিনি সত্তর পূর্ণ করতে যাচ্ছিলেন সেই সময়েই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের বিপর্যন্ত অবস্থার কারণে তিনি তার সেই পরিকল্পনা থেকে দূরে সরে আসেন। গতকাল সকালে মুঠোফোনে কথা হয় চিরসবুজ এই নায়কের সঙ্গে।

তিনি জানান, গতকাল তিনি বিএফডিসিতে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। করোনার প্রাদুর্ভাব আবার বেড়ে যাওয়ায় তিনি আরো সতর্ক হয়ে উঠেছেন। যে কারণে খুব কম সময়ই তিনি বিএফডিসিতে ছিলেন।

যথারীতি এবারের জন্মদিন নিয়েও কোন পরিকল্পনা নেই তার। জন্মদিনের দিন শুধু সকালে অফিসে যাবেন তিনি।

আলমগীর বলেন, ‘জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। শুধু এতোটুকুই বলবো, সবাই দোয়া করবেন যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে।’

১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল আলমগীরের জন্ম হয় রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। তার শৈশব যৌবন কেটেছে তেজগাঁও এলাকায়। বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর আজীবন সম্মাননা’প্রাপ্ত এই নায়ক সর্বশেষ ২০১৮ সালে ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন। এই সিনেমাতেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সঙ্গীত শিল্পী রুনা লায়লা’র একজন সুরকার হিসেবে অভিষেক ঘটে। সুরকার হিসেবে অভিষেক হয়েই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও ভূষিত হন। একই সিনেমায় গান গেয়ে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রথম আঁখি আলমগীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

নায়ক আলমগীর, আদ্যোপান্তই একজন সিনেমার মানুষ, একজন সিনেমাপ্রেমী মানুষ। শুধু অভিনয়ই যে করে গেছেন এমনটি নয়, অভিনয়ের পাশাপাশি একজন পেশাদার অভিনেতা’র যাত্রা শুরুর সময় থেকে আজ অবধি সিনেমা’র মানুষ’সহ সাধারণ মানুষের বিপদে আপদেও পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। যে কারণে কখনো তিনি হয়ে উঠেছেন মহানায়ক, কখনো হয়ে উঠেছেন তিনি সত্যিকারের কিংবদন্তী, কখনো অনেক আবদারের অভিভাবক আবার কখনো একজন সুপারষ্টার। অথচ এমন নানান বিশেষণগুলো তাকে খুব বেশি পুলকিত করেনা। কারণ নায়ক আলমগীর সবসময়ই একজন অভিনেতা হবারই চেষ্টা করেছেন।

একজন অভিনেতা হিসেবে কলেজ জীবনে নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে তার যাত্রা শুরু হলেও মূলত ১৯৭২ সালের ২৪ জুন তিনি প্রয়াত বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর কুমকুমের নির্দেশনায় ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি’তে ‘আমার জন্মভূমি’ মুক্তির আগেই আলমগীর সিরাজুল ইসলামের ‘দস্যুরানী’, আজিজুর রহমানের ‘অতিথি’, আলমগীর কুমকুমের ‘মমতা’, মোহর চাঁদের ‘হীরা’ সিনেমার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে একের পর এক সিনেমায় কাজ করে দীর্ঘদিনের পথচলায় অভিনয়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করেন।

এখন পর্যন্ত আলমগীর ২২৫টিরও বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। তার প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘ঝুমকা’। এক সময় রাজধানীর গ্রীন রোডে একটি স্কুলে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে দু’তিন মাস গানও শিখেছিলেন। মোস্তফা মেহমুদের ‘মনিহার’ সিনেমায় সত্য সাহার সুর সঙ্গীতে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি। কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘ মা ও ছেলে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। পরবর্তীতে আরো আটবার একই পুরস্কারে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের সব নায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবার রেকর্ড সৃষ্টি করেন তিনি। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘নিষ্পাপ’ (১৯৮৬)। বাচসাস’ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি তিনবার। আন্তর্জাতিক সম্মাননা ‘উত্তম কুমার সম্মাননা’, ‘কালাকার অ্যাওয়ার্ড’,‘ বেঙ্গল ফিল্ম অ্যান্ড কমার্স এসোসিয়েসন অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন।

ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত