ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৫৬

প্রিন্ট

আমার জন্য ব্যয় করা সময়টাই সেরা উপহার: মেহ্জাবীন

আমার জন্য ব্যয় করা সময়টাই সেরা উপহার: মেহ্জাবীন
মেহ্জাবীন চৌধুরী

ইমরুল নূর

ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছোঁয়ার আগে থেকেই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন ছোট পর্দার বড় তারকা মেহ্জাবীন চৌধুরী। কারণ, আজ ১৯ শে এপ্রিল এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। বন্ধু, সহকর্মী, অনুরাগীদের কাছ থেকে নানান মাধ্যমে পাওয়া এমন ভালোবাসায় অভিভূত তিনি। এদিকে বিশেষ এই দিনটিকে ঘিরে আগে থেকেই নানান পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন মেহ্জাবীন ভক্তরা। রাত বারোটা বাজতেই অনুরাগীদের ফেসবুকে প্রোফাইল ছবি ‘মেহুময়’ হয়ে উঠে। এবারের জন্মদিনে পরিকল্পনা, পুরনো স্মৃতি ও নানান মজার ঘটনা প্রসঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় কথা হয় এ তারকার সঙ্গে। তিনি জানান সেসব বিষয়ে। পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ জার্নাল: জন্মদিন মানেই একটি বছর গত হওয়া এবং একটি নতুন শুরু। বিশেষ এই দিনটি কীভাবে কাটাবেন?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: এখন তো রমজান মাস। তার উপর দেশে এখন লকডাউন চলছে। দেশের বর্তমান যে অবস্থা সে পরিস্থিতিতে এবারের জন্মদিনটা আমার কাছে খুব একটা স্পেশাল মনে হচ্ছে না। কারণ, প্রতিদিনই নানান রকম খারাপ খবর শুনছি। সেগুলোর কারণে সারাক্ষণ মাথায় বিভিন্নরকম চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌, এখনো যে বেঁচে আছি এটাই শুকরিয়া। আর প্রতিবারই জন্মদিনে পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, ভক্তরা বিভিন্ন মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এবারও তাই। তাদের ভালোবাসাতেই বারংবার মুগ্ধ হই। আর যেহেতু মহামারীর একটা খারাপ সময় চলছে, এমন মুহূর্তে বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারিনা। বাসাতে পরিবারের সঙ্গেই সময়টা কেটে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো মুহূর্ত কিংবা ঘটনা মনে আছে কী?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে সবসময়ই বিভিন্ন রকমের সারপ্রাইজ পেয়েছি। আমরা সবসময় ভাবতাম কীভাবে চমক দেওয়া যায়! কিন্তু গত ৪/৫ বছরে সারপ্রাইজ দেওয়া বা নেওয়াটা ওরকম করে হয়ে উঠে না। কারণ, এখন সবারই ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেকসময় সারপ্রাইজ প্ল্যান করলেও মিস হয়ে যায় ব্যস্ততার কারণে। সেজন্য আমরা বলে নিয়েছি সারপ্রাইজ নয়, আগে থেকে জানিয়ে পরিকল্পনা করেই যেন কিছু হয়। কারণ প্ল্যান করে কিছু না হলে মন ভেঙে যায়। আর সব বন্ধুরাই জন্মদিনে নানান কিছু গিফট করে। তবে তারা যে মনে করে আমাকে উইশ করে এটাতেই আমি ভালোবাসা খুঁজে পাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: প্রত্যেক তারকারই ভক্ত অনুরাগী রয়েছে। তাদেরকে ঘিরে নানান সময়ে মজার স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জন্মদিনে আপনার কোনো মজার ঘটনা আছে কী?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: সত্যি বলতে তাদের সঙ্গে প্ল্যান করে জন্মদিনে আসলে তেমন কিছুই করা হয়ে উঠে না। আর তাদের ভালোবাসা শুধু জন্মদিনেই না, সারা বছর জুড়েই পাই। সবসময় আমাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে তারা। কাজ নিয়ে কথা বলে, এপ্রিশিয়েট করে। আর দেখা হলে লেটার দেয়, চকলেট দেয়। শুধু একটা দিন নয়, বছর জুড়েই তারা আমার সঙ্গে থাকে। এটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। এটা অনেক বেশি প্রাপ্তির আমি মনে করি। এবার আমার জন্মদিনের উপহার হিসেবে আমার ভক্তরা আমার পুরো ক্যারিয়ারের একটা ভিডিও ম্যাশাপ তৈরি করেছে। ভীষণ ভালো লেগেছে। এই যে তারা আমার জন্য এতকিছু করছে, এটাই তো আমার অনেক বড় পাওয়া। একদম নিঃস্বার্থভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছে সবসময়। এটাই বা ক’জনে পায়!

বাংলাদেশ জার্নাল: জন্মদিনে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপহার কী পেয়েছেন?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: আমার কাছে সেরা উপহার হচ্ছে ‘সময়’। এর চেয়ে কোনো কিছু সেরা হতে পারে না। কেউ যখন আমার জন্মদিনকে ঘিরে কিছু লিখছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে বা আমার জন্য যেটুকু সময় ব্যয় করছে; আমার কাছে মনে হয় সে তার জীবনের মূল্যবান কিছু আমাকে উপহার দিচ্ছে, যেটা আমি কখনো তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না। কারণ, একটা গিফট কিনে দিলে হয়তো টাকাটা ফেরত দেওয়া যাবে কিন্তু কোটি টাকা দিলেও সময়টা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই সময়টাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। বিভিন্ন সময়ে অনেকের কাছ থেকেই অনেক গিফট পেয়ে থাকি। অনেকেই দেখা করতে আসার সময় অনেক কিছু নিয়ে আসেন। কিন্তু আমি গিফট নিতে পছন্দ করি না তবে দিতে খুবই পছন্দ করি। গিফট নিতে কেনো জানি আমার খুব লজ্জা লাগে।

বাংলাদেশ জার্নাল: আজকে মেহ্জাবীন চৌধুরী অনেক বড় তারকা, সুপারস্টার। ছোটবেলা থেকেই কী শোবিজে কাজের ইচ্ছা ছিলো আপনার?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: সত্যি বলতে ‘না’। আমার ইচ্ছা ছিলো যে আমি জনপ্রিয় হবো, সবাই আমাকে চিনবে। সবাই আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করবে এমন কিছু করতে চাই। সেটা যেকোন মাধ্যমেই হতে পারে। অভিনয়ের মাধ্যমে এমন কিছু হবে যে, ছোটবেলা এরকম কিছু মাথায় ছিলো না। আমি ছোটবেলা থেকেই অনেকটা কালচারাল মাইন্ডেড। অনেকের মতো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার ইচ্ছে আমার কখনোই ছিলো না। কারণ, পড়াশোনাতে আমি একটু ফাঁকিবাজই ছিলাম। পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা আমাকে বেশি টানতো।

প্রচন্ড ঝোঁক ছিলো খেলাধুলা নিয়ে। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন খেলাধুলায় ভীষণ ভালো ছিলাম। স্কুলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১৫টিরও বেশি মেডেল জিতেছিলাম। খেলাধুলা ভীষণ পছন্দ করতাম, বলা যায় স্পোর্টি ছিলাম আমি। তখন খুব ইচ্ছা ছিলো অলিম্পিক কিংবা এশিয়ান গেইমসের মতো কোনো প্লাটফর্মে যদি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারতাম, তাহলে আমাকে সবাই চিনতো। আর যদি বিজয়ী হতে পারতাম, নিজের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতাম; দেশের জন্য কিছু একটা নিয়ে আসতে পারতাম! কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠেনি।

বাংলাদেশ জার্নাল: শোবিজে কাজ করার ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট কেমন পেয়েছেন? কোনো বাঁধা আসে নি?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: সত্যি বলতে আমার পরিবার থেকে তেমন কোনো বাঁধা দেয়নি। আমার পরিবারটা খুবই ফ্লেক্সিবল। এখানে কেউ কারো উপরই কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয় না। সবার মতামতের গুরুত্বটা রয়েছে। সেই ছোট থেকে এখন পর্যন্ত আমি এটাই দেখে এসেছি। আমার ছোট ভাই-বোনদের ক্ষেত্রেও এমনটা করেননা তারা। শুধু সবাইকে এটুকুই বলে দেওয়া হয়েছে যে, তোমাদের যার যেটা করার ইচ্ছা সেটাই করবে কিন্তু সেটাতে অবশ্যই ভালো করতে হবে। সো, তোমরাই সিদ্ধান্ত নাও, কে কি করতে চাও!

বাংলাদেশ জার্নাল: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলায়। আজকে মেহ্জাবীনের যে জনপ্রিয়তা তার কাজের জন্য সবাই মুখিয়ে থাকে। একটা সময় পর যখন মেহ্জাবীন আর অভিনয় করবে না, তখনকার সময় নিয়ে কিছু ভেবেছেন কী?

মেহ্জাবীন চৌধুরী: আমি যে অভিনয় করবো, এটাই তো কখনো ভাবিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছু হয়ে গিয়েছে। আর আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছুই ভাবছি না। ভবিষ্যতে কি হবে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি যেদিকে নিয়ে যাবেন সেদিকে যাবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত