ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৫০

প্রিন্ট

শুভ’র সঙ্গে আমার সিনেমাভাগ্য খারাপ: পূর্ণিমা

শুভ’র সঙ্গে আমার সিনেমাভাগ্য খারাপ: পূর্ণিমা
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

ইমরুল নূর

ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে পূর্ণিমা যেন একটি সফল অধ্যায়ের নাম, যাকে ছাড়া চলচ্চিত্রের ইতিহাস ভাবাও যায়না। প্রায় দুই যুগ ধরে অভিনয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন নন্দিত এ চিত্রনায়িকা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। অনেকদিন ধরেই বড় পর্দায় দেখা না মিললেও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার নতুন দুই সিনেমা ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’।

সিনেমাগুলো প্রসঙ্গে আক্ষেপের সুরে এ নায়িকা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘গাঙচিল’ সিনেমার কাজ প্রায় শেষ। আর মাত্র ৫ দিনের মতো শুটিং করলে ছবিটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কেন যে ছবির কাজ শেষ করছে না, সেটাই আমি বুঝতেছি না। আদৌ শেষ করবে কিনা তাও আমি জানিনা। আর ‘জ্যাম’ তো বন্ধই হয়ে গেলো। যতটুকু জেনেছি, মনে হয়না ছবিটার কাজ আর হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রযোজকরা চাচ্ছেন না ছবিটি শেষ করতে। কারণ, ছবিটির যে বাজেট ছিলো তা এরইমধ্যে অতিক্রম করে গিয়েছে, যার কারণে প্রযোজক আর ছবিটি করতে চাচ্ছে না। আমার খুবই ব্যাড লাক! আরেফিন শুভর সঙ্গে এর আগে ‘ছায়াছবি’ নামে একটা সিনেমা করেছিলাম, সেই ছবিটি আজও মুক্তি পায়নি। তারপর দুজনে আবার জুটি বেঁধেছি ‘জ্যাম’ সিনেমায়। এখন এটাও নাকি আর হবে না। শুভর সঙ্গে এটা আমার বাজে একটা অভিজ্ঞতা, হয়তো ব্যাড লাক আমাদের দুজনের। ওর সঙ্গে আমার সিনেমা ভাগ্য খুবই খারাপ। যার কারণে এই জুটির কাজ হতে হতে গিয়েও কেন যে হয় না! সেই জায়গা থেকে অনেকটাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। এরপর থেকে আর কেউ আমাদের দুজনকে একসাথে চাইবেন বলেও মনে হয় না।’

অনেকদিন বড় পর্দায় নেই আপনি। সেই চিরচেনা পর্দাটা কতটুক মিস করেন? এমন প্রশ্নে পূর্ণিমা বলেন, ‘বড় পর্দা দিয়েই আমার শুরু, সেই পর্দাতেই দর্শক আমাকে চিনেছে, অনেক অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। সেই জায়গাটাকে প্রতিনিয়তই মিস করি। দুইটে ছবির কাজ যে ঝুলে আছে সেগুলো শেষ হলে হয়তোবা দর্শকরা আবার আমাকে পর্দায় দেখতে পেতো। এখন সেটা আবার কবে হয় কে জানে!’

চলতি বছর প্রথম কাজে অংশ নিয়েছিলেন একটি ওয়েব ফিল্মে। অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘মুন্সিগিরি’ সিনেমাতে দেখা যাবে পূর্ণিমাকে। এ ছবিটি প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, ‘এটির কাজ শেষ করেছি অনেকদিন হয়েছে। এখন যতটুক জানি, সম্পাদনার কাজ চলছে। আর মুক্তির বিষয়টি পরিচালক, প্রযোজকরা ভাল বলতে পারেন।’

কাজটি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবারের মতো মাই কোনো ওয়েব ফিল্মে কাজ করেছি। কিন্তু কাজটি করতে গিয়ে আমি তৃপ্তি পাইনি। চারদিনের মতো শুটিং করেছি, সময়মতো সেটে গিয়েছি, কাজ শেষ করেছি। কিন্তু কাজটা করার পর মনে হলো হয়তো আমি আরও ভালো করতে পারতাম। সত্যি বলতে আমার মনোঃপুত হয়নি।’

এদিকে লকডাউন শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেই পূর্ণিমা রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র শুটিং শেষ করেছেন। রাজধানীর অদূরে গাজীপুরে গেল মার্চে শুরু হওয়া এর শুটিং চলেছে মাসব্যাপী। পূর্ণিমা বলেন, ‘এর আগেও একই অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে কাজ করেছিলাম। সেটা ছিলো আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। আবারো একই অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে কাজ করতে পারাটা বেশ সম্মানের বলেই মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেরা রাঁধুনী’র শুটিং হয়েছে গাজীপুরে। মার্চ মাসে শুরু হয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর শুটিং হয়েছে। টানা ১২ ঘন্টা করে শুটিং করতে হয়েছে আমাকে। সেদিক থেকে অনেকটা ধকল গিয়েছে শরীরের উপর। তারপরও কিছু অংশ বাকি রয়েছে। জুন মাসে এটার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত