ঢাকা, রোববার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৬:২৬

প্রিন্ট

সাক্ষাতকারে অদিতি

আয়াশের দেয়া গিফটগুলোই আমার সেরা উপহার

আয়াশের দেয়া গিফটগুলোই আমার সেরা উপহার

ইমরুল নূর

মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। আর তাই ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। শৈশবকাল থেকেই নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরতেন তিনি। সেই স্বপ্নকে পূর্ণতা দিতেই নিজের ডিজাইনকৃত পোশাক নিয়ে পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেন ফ্যাশন হাউজ ‘অদ্রিয়ানা এক্সক্লুসিভ’। বলছিলাম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার নাজিয়া হাসান অদিতি’র কথা।

সোমবার তার জন্মদিন। জন্মদিনে বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের বাইরেও অসংখ্য অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। জন্মদিন নিয়ে তেমন কোনো বিশেষ পরিকল্পনা না থাকলেও পরিবারের সঙ্গেই কাটাবেন, বিশেষ করে একমাত্র সন্তান জায়ান ফারুক আয়াশের সঙ্গে।

জন্মদিন প্রসঙ্গে নাজিয়া হাসান অদিতি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, পরিচিত মানুষরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, বেশ ভালো লাগছে। তাদের সবার ভালোবাসায় প্রতিটা মুহূর্ত সিক্ত হচ্ছি। যেহেতু রমজান মাস তার উপর দেশের যা পরিস্থিতি বাইরে কোথাও যাওয়া হবে না। পরিবারের সঙ্গে বাসাতেই সময় কাটানো হবে। আয়াশের সঙ্গে সময় কাটাতেই আমার ভীষণ ভালো লাগে, ওর সঙ্গেই থাকবো। মজার কিছু খাবার রান্না করবো, ইফতারের জন্য নানারকম আইটেম তৈরি করবো। এভাবেই সময়টা কেটে যাবে। আর বিশেষ করে সামনে যেহেতু ঈদ তাই এখন ব্যবসায়িক চাপটা একটু বেশি। এ চাপটাই জন্মদিনকে ভুলিয়ে দিচ্ছে।

জন্মদিন নিয়ে মজার স্মৃতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলার সবক’টা জন্মদিনই ছিলো বেশ মজার। এপ্রিল মাসের ১ তারিখ আসলেই আমি এক্সাইটেড হয়ে যেতাম কবে ২৬ তারিখ আসবে! আয়াশ জন্ম হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি নিজেকে শিশু মনে করতাম। আর আয়াশ হওয়ার পর থেকে আমার জন্মদিনের চেয়ে ওর জন্মদিন নিয়েই আমি বেশি এক্সাইটেড থাকি।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে যদি কোন মজার স্মৃতি বলি বলবো আমার জন্মদিনে আয়াশের দেয়া বিভিন্ন রকম উপহার। দেখা যায় পরিবারের অন্যান্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আয়াশ আমার জন্য খুব সুন্দর সুন্দর কার্ড গিফট করে। এমনও হয়েছে অন্যের কোনো জিনিস এনে সেটা সে আমাকে গিফট করে দেয়। ওর কাছ থেকে পাওয়া এ গিফটগুলোই আমার জন্মদিনের সেরা উপহার। আমার জন্মদিন নিয়ে আয়াশ সবচেয়ে বেশি এক্সাইটেড থাকে। মাকে কীভাবে সারপ্রাইজ দেবে, উপহার দেবে সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে বেশি।

রমজান মাসে জন্মদিন উদযাপনটাকে অদিতি বেশ আনন্দের চোখেই দেখেন। তিনি বলেন, রমজান মাস আমার খুব প্রিয়। এটা রহমতের একটা মাস। আমরা তো গুনাহগার বান্দা; এ মাসে সেগুলো কাটিয়ে উঠার সুযোগ থাকে আমাদের। রমজান মাসে রোজা রাখা, নামাজ পড়াটা ইবাদতের বাড়তি পাওয়া বলেই মনে করি। কিন্তু রমজান মাস শেষ হয়ে যখন ঈদ চলে আসে তখন আমার খুব কান্না পায়।

আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকেই রোজা রাখি। তখন অনেক কিছুই বুঝতাম না। তখন নামাজ পড়ার চেয়ে রোজা রাখাটাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতাম। ত্রিশটা রোজা রাখার চেষ্টা করতাম। আর বিশেষ করে সেসময় আমরা কাজিনরা প্রতিযোগিতা করে রোজা রাখতাম। কোনোভাবেই চাইতাম না যে কেউ আমার চেয়ে বেশি রোজা রাখুক। যখন একটু বড় হয়েছি তখন বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছি। এরপর থেকে প্রতিনিয়তই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করি, রোজার মাস এলে ত্রিশটা রোজা রাখার চেষ্টা করি। কোনো কারণে যদি কোনো নামাজ কিংবা রোজা মিস হয়ে যায় তাহলে খুব মন খারাপ হয় আমার।

পাঁচ বছর ধরে ‘অদ্রিয়ানা এক্সক্লুসিভ’ নিয়ে কাজ করছেন। করোনার ধাক্কায় ব্যবসায়িকাভাবে কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন? এমন প্রশ্নে অদিতি বলেন, আমি একটু একটু করেই আমার এই প্রতিষ্ঠানটা গড়ে তুলেছি, যেটা আমার স্বপ্ন ছিলো। সবকিছু ভালো চলছিলো কিন্তু করোনার কারণে বিশাল বড় একটা ধাক্কা খেলাম। ব্যবসায়ের ক্ষতিটা আসলে অপূরণীয়। গত বছরে যে কালেকশন তুলেছিলাম, করোনার প্রকোপে অনেক বড় একটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। সেই ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠতে হয়তো আমার ৩/৪ বছর সময় লেগে যাবে। ভেবেছিলাম করোনার প্রকোপ কমলে এ বছর হয়তো একটু হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবো। কিন্তু এবছরও প্রকোপটা বেড়ে যায়। ব্যবসায়িক ক্ষতি হলেও সেটা মেনে নিতে হবে আর এখন ব্যবসায়ের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

তিনি আরো বলেন, এখন করেনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। দেশে, দেশের বাইরের অনেক ক্লায়েন্ট অনলাইনেই বেশি কেনাকাটা করছেন। আমিও অনলাইনেই সবকিছু করার চেষ্টা করছি। সামনে ঈদ, এরজন্য নতুন নতুন অনেক কালেকশন তুলেছি আবার। সেদিক থেকে আমার ওপর এখন চাপটা অনেক বেশি। এরমধ্যে গতকাল থেকে লকডাউন শিথিল হয়েছে, শোরুমগুলো খুলে দিয়েছি। শোরুমে লোক সমাগম এখন কম। আর আমি চাচ্ছিও না সেটা বাড়ুক। এখন অনলাইনে কেনাকাটা করাটাই সবার জন্য নিরাপদ। অনলাইনের ক্ষেত্রে আমি কাস্টমারদের পোশাক পছন্দ না হলে সেটা আবার ফেরত নিয়ে নিচ্ছি। কারণ সরাসরি কিছু দেখে কেনাকাটা করা আর অনলাইনে অর্ডার করার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য তো থেকেই যায়। অনেক সময় ছবির রঙটা অন্যরকম দেখায়! সেজন্য কাস্টমারদের পছন্দ না হলে সেটা ফেরত নিয়ে তাদের পছন্দ মতো প্রোডাক্টটি দেয়ার চেষ্টা করি। তখন ডেলিভারি চার্জটা আর রাখি না।

অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে কাস্টমারদের তো অনেক অভিযোগ থাকে। সেগুলো কীভাবে সমাধান করেন? অদিতির জবাব, আমার পোশাক সবাই পছন্দ করেন। আমার কিছু কাস্টমার আছেন যারা সবসময় অপেক্ষা করেন আমি নতুন কালেকশন কবে তুলবো! তারা আমার কাজে সন্তুষ্ট। আমিও সবসময় আমার কাস্টমারদের সন্তুষ্টির দিকটা দেখি। আর অভিযোগ তো একটা-দুইটা থাকেই। অনেকেই বলে থাকেন যে ছবিতে যে রঙের দেখেছিলাম সরাসরি সেটা সে রঙের না। অনেক সময় রঙ একটু এদিক-সেদিক হয়েই যায়। এ অভিযোগটা সব অনলাইন ব্যবসায়ীদেরই ফেস করতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি চেষ্টা করি কাস্টমারদের পছন্দানুযায়ী প্রোডাক্টটি পৌঁছে দেয়ার। কাস্টমারদের সেটিসফেকশনের ক্ষেত্রে আমি কোনো ধরণের কম্প্রোমাইজ করি না। উনারা যেভাবে চায়, আমি সেভাবেই দিই।

‘তুমি বললে’, ‘চারুর বিয়ে’ ও ‘রুদ্র আসবে বলে’ শিরোনামের তিনটি নাটক লিখেছিলেন। এরপর আর কোনো নাটকে পাওয়া যায় নি। আবার কবে নতুন নাটকে পাওয়া যাবে আপনাকে?

অদিতির উত্তর, ছোটবেলা থেকেই আমার গল্প লেখার প্রতি ভীষণ আগ্রহ। তখন থেকেই আমার মাথাতে গল্প ঘুরপাক খায়। এটা আমার পাগলামি নাকি ক্রিয়েটিভিটি; সেটা আমি জানি না। গল্প তো এখনও মাথায় আছে। ইচ্ছে আছে আবারো লিখবো। পরিচালকরা যদি পছন্দ করেন তাহলে তারা নাটক বানাবেন।

আর আমার মনে হয় না যে আমি অনেক ভালো গল্প লিখি! এখন অনেক ভালো ভালো গল্পে নাটক নির্মাণ হচ্ছে, আমি দেখি। সেগুলো দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হই। অনেকে আমাকে পছন্দ করেন বলেই আমার প্রশংসা করেন। আমি যেহেতু একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং বিজনেস উইমেন সেহেতু এদিক সামলে গল্প লিখার মতো ওরকম সময় পাই না। তারপরও সবকিছু সামলে যতটুকু পারি চেষ্টা করি।

‘বিনি সুতোর টান’ নাটকে জায়ান ফারুক আয়াশের অভিনয়ে দর্শকরা মুগ্ধ। এরপর আর তাকে দেখা যায়নি। আয়াশকে আবার কবে পর্দায় দেখা যাবে? দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অদিতি বলেন, সবাই যে আয়াশকে এত পছন্দ করেন এবং ভালোবাসেন তার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর সত্যি বলতে ওই নাটকটির পর অনেক নাটকের প্রস্তাবই এসেছে আয়াশের জন্য। কিন্তু সেসব গল্প পছন্দ হয়নি আমার। তবে যদি খুব সুন্দর গল্পে প্রস্তাব পাই তাহলে আমরা অবশ্যই সেটি চিন্তা করবো। এখন আপাতত আয়াশের পড়াশোনার দিকেই গুরুত্বটা বেশি দিচ্ছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত