ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৮

প্রিন্ট

এবার বুয়েটের গোমড় ফাঁস করলেন প্রাক্তন ছাত্র আবুল হায়াত

এবার বুয়েটের গোমড় ফাঁস করলেন প্রাক্তন ছাত্র আবুল হায়াত
জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে ঘটেছে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সেই হলেই থাকতেন জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াত। তিনি বুয়েটের একজন প্রাক্তন ছাত্র। আবরারের হত্যাকাণ্ডে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি অকপটে বলেছেন, এই বুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি তিনি কিভাবে দেখেছেন।

আমরা বলতাম ‘বুয়েট ইজ অ্যান আইল্যান্ড’। সমস্ত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। যার ভেতরে সবকিছু হচ্ছে। পড়াশুনা হচ্ছে, খেলাধুলা হচ্ছে, সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা সবই হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোন মারামারি নেই, ঝগড়াঝাটি নেই। আমরা কি আন্দোলন করিনি? অবশ্যই করেছি। আমরা চুপচাপ ভিসির বাড়িতে গেছি পরীক্ষা পেছাতে হবে। ভিসি এসে আমাদের সামনে হাসছেন। আমরা আন্দোলনের পর চিৎকার করছি। কিন্তু তিনি হাসছেন। কারণ তিনি আমাদের সন্তানের মতো মনে করতেন।

আর আজকের ভিসি! আমি তো চিন্তাই করতে পারি না। আমার সন্তান মারা গেল সেই খবর পেয়ে সেখানে আমি যাবো না! ভিসির সন্তান নয় ছাত্ররা? এর চেয়ে অবাক করা বিষয়তো আর হতে পারে না। আপনারা বিশ্বাস করুন আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে গেছে। তিনি অলমোস্ট বিছানায় পড়ে আছে। তার কথা, এই সন্তানটি তো আমারও হতে পারতো। আমি তাকে বুঝাতে পারছি না এটা একটা ঘটনা। সে বলছে না এটা কিভাবে সম্ভব? এই ছেলেগুলোর সঙ্গে তুমি সেদিন অনুষ্ঠান করে আসলে না? হ্যাঁ আমি দুঃখিত এই ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ বছর পূর্তির পুনর্মিলনী করেছি। আরো দুর্ভাগ্য এই ছেলেগুলোকে আমি চিনি। এদের সঙ্গে আমার বহুবার কথা হয়েছে।

গত বছর যখন হল ফেস্ট হলো তখন এরা আমাকে ফোন করেছে। ওরা অনুরোধ করে বলেছে, হায়াত ভাই আমরা হলফেস্ট করছি। আমরা পুরনো ছাত্রদের চাই। আপনি আসবেন। আমি বলেছি, আসবো। অবশ্যই আসবো। কারণ আমি হলকে ভালোবাসি। এই হল আমার প্রাণের বন্ধন। এই হলের স্মৃতি আমি কখনো ভুলতে পারি না। এই ২৫ বছর পূর্তি আমি করেছি। অ্যালামনাই আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি গেলাম। তাদের সঙ্গে খেলাম, গল্প করলাম। তারা আর্থিক সাহায্য চাইলো। আমি আমার এক বন্ধুকে বললাম, তাদের সাহায্য কর। এরা তো আমাদেরই ভাই। আমরা আর্থিক সাহায্য করলাম। আমরা হাসিমুখে গল্প করলাম।

তার কিছুদিন পরে আমরা ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান করলাম। তখন বুঝলাম যত সহজ ভাবছি তেমন সহজ না। কারণ এই অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমরা সিনিয়র হয়েও প্রতিপদে বাধার সম্মুখীন হলাম।

প্রথম বাধাটি আসলো যখন আমরা প্রভোস্টকে বললাম, আমরা আমাদের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমান ছাত্র যারা আছে তাদের ইনক্লুড করতে চাই। আমি প্রথমেই হতবাক হয়ে গেলাম কোন ছাত্র পরিষদ নেই। ছাত্র পরিষদ নেই তাহলে ছাত্রদের দেখাশুনা কে করে? বলে আছে কিছু ছেলে যারা নিজেরা নিজেরাই ঠিক করে নিয়েছে। তারাই ব্যবস্থা করে। বললাম আপনি ওদিকে যান না? বলে না ওরা আমাকে দেখলে নানান রকম ইঙ্গিত কমেন্টে করে।

ছাত্রদের সঙ্গে এই যে প্রভোস্টের বিরাট একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। শুধু প্রভোস্ট কেন সম্পূর্ণ প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদের একটি বিরাট দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সামনে অ্যালামনাই ফেডারেশনের অনুষ্ঠান করার জন্য ভিসির সঙ্গে দেখা করার জন্য দেড় মাস অপেক্ষা করেছি। একটা চিঠি নিয়ে দেড়মাস অপেক্ষা করেছি তার অনুমতির জন্য।

তিনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হবেন বলে রাজি হয়েও আসেননি। এখন একজন ভিসিকে আমরা কি বলতে পারি? তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। যেখানে আমরা পড়াশুনা করেছি। আমার চোখের মধ্যে আছে ড. রশীদ, ড. নাসির, সালেহ আহমেদ সাহেবের মতো ব্যক্তিত্ব আমার চোখের সামনে রয়েছে। সেখানে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে কোন ছেলে নির্যাতিত হলে প্রফেসররা কিছু বলতে সাহস পান না। কারণ তার প্রশাসনিক সমস্যা হতে পারে। তাই বলে তো একটা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা আপনি করতে পারেন না।

আমি মনে করি প্রশাসনকে হারপিক দিয়ে পরিস্কার করার সময় এসেছে। বুয়েটের প্রশাসনের এই অবস্থা হলে দেশের সেরা মেধাবীর আর এখানে ভর্তি হবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত