ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২০, ১৮:৪২

প্রিন্ট

করোনাভাইরাস: সাত উপায়ে থামবে ভুল তথ্য

করোনাভাইরাস: সাত উপায়ে থামবে ভুল তথ্য
প্রতীকী ছবি
জার্নাল ডেস্ক

ইন্টারনেটে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে ব্যাপক হারে, আর তাই বিশেষজ্ঞরা ‘তথ্য স্বাস্থ্যবিধি’ মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সবাইকে।

সেক্ষেত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতে আপনি কী ভূমিকা রাখতে পারেন?

১) চিন্তা করুন

আপনি আপনার পরিবার ও বন্ধুদের ভাল চান এবং তাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে চান। তাই নতুন কোনো তথ্য যখন আপনি পান - সেটা ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা টুইটার যেখানেই হোক না কেন - আপনি তাদের কাছে সেই তথ্য পাঠিয়ে দিতে চান।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতে আপনি সর্বপ্রথম যা করতে পারেন, তাহলো এমন কাজ থেকে বিরতি নিন এবং চিন্তা করুন। আপনার যদি কোনো সন্দেহ হয়, তাহলে ওই বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন।

২) তথ্যের উৎস যাচাই করুন

কোনো পোস্ট আরেকজনের কাছে পাঠানোর আগে তথ্যগুলোর উৎস যাচাই করার চেষ্টা করুন।

উৎস যদি হয়ে থাকে ‘এক বন্ধু’, ‘বন্ধুর আত্মীয়’, ‘আত্মীয়ের সহকর্মী’ অথবা ‘সহকর্মীর আত্মীয়’র মত কেউ, তাহলে অবশ্যই সেই তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

৩) তথ্যটি কি ভুল হতে পারে?

বাইরে থেকে দেখে বিভ্রান্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের কারো আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট বা যে কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে পোস্ট দেয়া খুবই সম্ভব। সেই সব পোস্ট দেখে মনে হতে পারে যে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই এসেছে তথ্যগুলো।

স্ক্রিনশট পরিবর্তন করে এমনভাবে তা প্রকাশ করা যায় যা দেখে মনে হয় যে তথ্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকেই এসেছে।

এ রকম ক্ষেত্রে পরিচিত এবং ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটের তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখুন। সেসব জায়গায় যদি সহজে তথ্যগুলো খুঁজে না পান, তাহলে সম্ভবত এগুলো ভুল।

আর পোস্ট, ভিডিও বা লিঙ্ক দেখেই যদি আপনার ভরসা না হয়, তাহলে হয়তো ভরসা না করাই উচিত।

বাংলাদেশ জার্নালে আরো পড়তে পারেন:

> লকডাউন: বাড়ি ফিরতে ছেলেকে কাঁধে নিয়ে ২ দিন হাঁটলেন যুবক

> করোনা প্রতিরোধে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

> করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আগে যা বললেন চিকিৎসক

> বিদেশী নাগরিকদের সহযোগিতার আশ্বাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

> করোনাভাইরাস: নাগরিকরা প্রত্যেকে পাবেন ১২ শ ডলার​

> যে ৭ রোগ থাকলে করোনা হলে আপনার ঝুঁকি বেশি​

> করোনার সচেতনতায় এমনটা কেউ করেননি আগে​

> দেশ লকডাউন হলেও মসজিদ বন্ধ করা যাবে না

> পিপিই ছাড়া চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা স্থগিত

> করোনাভাইরাসকে ‘অবহেলা’ করছেন ট্রাম্প​

> করোনা নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

> ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত​

> গুজবে হবিগঞ্জবাসীর নির্ঘুম রাত

> চা পানেই করোনা থেকে মুক্তি!

> বিশ্বের ২০০ দেশে করোনা​

> কাশি দিলেই শাস্তি

৪) সত্যতা নিয়ে অনিশ্চিত? - শেয়ার করবেন না

কোনো তথ্য ‘ঠিক-হতেও-তো-পারে’ মনে করে সেগুলো আরেকজনকে পাঠাবেন না। এ রকম ক্ষেত্রে আপনি কারো ভালো করার মানসিকতা নিয়ে তথ্য দিয়ে হয়তো তাকে ক্ষতির সম্মুখীন করবেন।

৫) প্রতিটি তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করুন

হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস বেশ ছড়িয়েছে। ওই ক্লিপে যে নারী কথা বলেন, তিনি সেখানে বলেন যে তার ‘সহকর্মীর একজন বন্ধু, যিনি হাসপাতালে কাজ করেন’ তার কাছ থেকে তথ্যগুলো জেনে অনুবাদ করেছেন তিনি।

ওই ভয়েস ক্লিপটি সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিবিসি’র কাছে পাঠিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে ভয়েস ক্লিপটির তথ্যগুলো ছিল ভুল এবং সঠিকের সংমিশ্রণে তৈরি করা। যখন অনেকগুলো উপদেশের তালিকা আপনাকে পাঠানো হবে, তখন অনেক সময় আপনি সবগুলো তথ্যই বিশ্বাস করতে চাইবেন। কারণ তালিকায় থাকা কয়েকটি তথ্য যে সঠিক, সে সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত। কিন্তু অনেক সময়ই কয়েকটি সঠিক তথ্যের সাথে ভুল তথ্য যোগ করে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

৬) আবেগী পোস্ট থেকে সাবধান

যেসব পোস্ট আমাদের আতঙ্কিত, চিন্তিত অথবা উৎফুল্ল করে তোলে, সে রকম পোস্ট ভাইরাল হওয়ার বেশি সম্ভাবনা থাকে। অনলাইনে ভুল তথ্য আলাদা করতে সাংবাদিকদের সাহায্য করা প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ড্রাফটের ক্লেয়ার ওয়ার্ডল বলেন, ‘বিভ্রান্তিকর তথ্যকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষের মধ্যকার ভয়। নিজেদের কাছের মানুষকে সব সময় সাহায্য করতে চায় মানুষ, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তাই ‘ভাইরাস প্রতিরোধ করার টিপস’ বা ‘এই ওষুধগুলো খান’ জাতীয় পোস্ট সহজে ভাইরাল হয়। কারণ মানুষ যেভাবে পারে কাছের মানুষকে সাহায্য করতে চায়।

৭) একপেশে চিন্তা সম্পর্কে সাবধানে থাকুন

আপনি যখন একটি পোস্ট শেয়ার করেন, তখন আপনার সেটি শেয়ার করার পেছনে যুক্তিটি কী থাকে? পোস্টের তথ্যগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত বলে শেয়ার করছেন, নাকি আপনি শুধুমাত্র তথ্যগুলোকে সমর্থন করছেন? ডেমোসের সেন্টার ফর দ্য অ্যানালিসিস অব সোশ্যাল মিডিয়ার গবেষণা পরিচালক কার্ল মিলার মনে করেন, আমাদের মধ্যে বিদ্যমান ধ্যান-ধারণার প্রতিফলন যেসব পোস্টে আসে, সেসব পোস্টই আমরা সাধারণত শেয়ার করে থাকি।

তিনি বলেন, যখন কিছু দেখে আমরা ক্রুদ্ধ হয়ে মাথা ঝাঁকাই, সেই সময়ে আমাদের ভুল তথ্য শেয়ার করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ঐ সময়টাতে আমাদের অনলাইন কার্যক্রম ধীরগতিতে চালানো জরুরি। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

আরো পড়ুন:

> অন্যদের বাঁচাতে আত্মহত্যা করলেন করোনা আক্রান্ত নার্স

> দেশে বেড়েছে করোনার বিস্তার ও নমুনা সংগ্রহের আওতা

> করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখছেন চিকিৎসকরা​

> ঢাকার রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ, সাথে সেনাবাহিনী

> করোনা থেকে বাঁচতে ডেটল খেয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু​

> বিমানের দুটি ছাড়া সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ

> করোনায় প্রাথমিকে ‘বার্তা’ পাঠাবে মন্ত্রণালয়

> করোনায় চিকিৎসক যুগলের অন্যন্য দৃষ্টান্ত​

> করোনা ঠেকাতে তালপাতার মাস্ক ব্যবহার

> স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

> করোনা একটি যুদ্ধ, আমাদের জিততে হবে

> কোনো ধরনের জনসমাগম নয়: প্রধানমন্ত্রী

> করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে​

> হ্যান্ডওয়াশ মাস্ক দিচ্ছে সেনাবাহিনী

> করোনায় বাড়িতে যা করবেন

> সব কারখানা বন্ধের নির্দেশ​

> করোনা ‘জয়ে’ সুখবর​

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best