ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৫০

প্রিন্ট

ট্রাম্পের অভিশংসনের জন্য শপথবদ্ধ সিনেটররা

ট্রাম্পের অভিশংসনের জন্য শপথবদ্ধ সিনেটররা
মার্কিন সিনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরপেক্ষ অভিশংসন বিচারের জন্য শপথ গ্রহণ করেছেন সিনেটের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় দফা অভিশংসন বিচারে সিনেট সদস্যদের এমন শপথ নজিরবিহীন ঘটনা। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচারের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্রে আগে কখনো ঘটেনি। সিএনএন।

২৬ জানুয়ারি মার্কিন সিনেটের পাঁচজন ছাড়া বাকি রিপাবলিকান সদস্যরা ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার কার্যক্রমের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। অর্থাৎ মাত্র পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অবস্থান নেন।

ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর করতে কমপক্ষে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন সমর্থন পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণে ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে শুরুতেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অভিশংসন আদালতের কাজ শুরু হবে বলে একমত হয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা।

সিনেটের প্রবীণতম ডেমোক্র্যাট প্যাট্রিক লেহির সভাপতিত্বে সিনেটররা শপথ গ্রহণ করেন। পরে কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর রেন্ড পল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের এই অভিশংসনের প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক এবং বিচার চলতে পারে না জানিয়ে এর ওপর ভোট গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ৫৫ ভোটে সিনেটর পলের প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

সিনেটর পলের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনেলসহ ৪৫ জন রিপাবলিকান ভোট দেন। পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন মিট রমনি, বেন সেসি, সুজান কলিন্স, লিসা মার্কোয়াস্কি ও প্যাট টোমি।

সিনেটে রেন্ড পল বলেন, ট্রাম্প এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট। একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে ট্রাম্পের এখন কোনো পার্থক্য নেই। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন অভিশংসনের বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না। সিনেটর পল বলেন, এই অভিশংসনের প্রক্রিয়া দেশ ও জাতিকে ঐক্যের পরিবর্তে আরও বিভক্ত করবে। এ জন্য এই বিচারে সভাপতিত্ব করতে প্রধান বিচারপতিও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

পলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। পলের বক্তব্যে হতাশা ব্যক্ত করেন সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চাক শুমার। শুরুতেই অভিশংসন প্রস্তাব ভোটের কবলে পড়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, অভিশংসন প্রস্তাব থেকে ট্রাম্পের খালাস পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্প এখনো আলোচনায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। একদিকে মার্কিন সিনেটে তার অভিশংসন বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ফ্লোরিডায় দপ্তর খুলেছেন। ‘সাবেক প্রেসিডেন্টের অফিস’ নামের এই দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/নকি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত