ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ২৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

ককরোচ আন্দোলন: দিল্লির যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩

ককরোচ আন্দোলন: দিল্লির যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে নয়া দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে সহিংসতা হয়েছে।

বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকায় ওই এলাকার দেড় কিলোমিটারের ভেতরে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ঘিরে দেড় কিলোমিটার এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনের বাইরেও ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভারতের ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ এর ১৬৩ ধারা হল জরুরি পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা বজায় রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তৃক জারি করা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা। এটি অনেকটা বাংলাদেশের ১৪৪ ধারার মত কাজ করে।

এর আগে বুধবার রাতে সহিংসতার পর দিল্লির অনেকাংশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাহত হয় মোবাইল যোগাযোগ সেবাও।

ভারতের টেলিকম শিল্পের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এই নির্দেশের মেয়াদ বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।

ভারতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও গুজব ছড়িয়ে রোধে প্রায়ই এলাকাভিত্তিক ইন্টারনেট বন্ধ করে সরকার। এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন, যোগাযোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় অনলাইন সেবা প্রায়ই ব্যাহত হয়, তাতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশটি গোপনে জারি করা হয় এবং সরকার এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ইন্টারনেট স্থগিতের কারণ, মেয়াদ এবং সুনির্দিষ্ট এলাকা সম্পর্কিত তথ্যের জন্য এয়ারটেল, রিল্যায়েন্স জিও, ভোডাফোন আইডিয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সিজেপির আন্দোলন ও সহিংসতার ফলে অচলাবস্থার কারণে দিল্লির ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরো সহিংসতার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী সংগঠন নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বেশ কিছু এলাকার সব দোকান ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে সিজেপির বিক্ষোভ ৩৪তম দিনে গড়ালেও সংগঠনটির সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে। সরকারের দাবি, তারা চারবার সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, “ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের দরজা সবসময় খোলা। বিক্ষোভকারীরা বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে বৈঠক করতে পারেন।”

কিন্তু সিজেপি বলেছে, তারা কেবল যন্তর মন্তরের কাছে একটি নিরপেক্ষ স্থানেই বৈঠক করবে, অন্য কোথাও নয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত