ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০০

প্রিন্ট

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ভারত

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ভারত
উত্তাল আসাম
কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় উত্তাল আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ পাশ্বর্বতী রাজ্যগুলো।

বিতর্কিত এই বিলটি ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়ার পর থেকেই ভারতের উত্তর পূর্বের এই রাজ্যগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার দিনভর আসামের রাজধানী গৌহাটিতে গণভবনের সামনে ‘সংকল্প দিবস’ পালন করে কৃষক নেতা অখিল গগৈ-এর নেতৃত্বে ৭০টি সংগঠনের সদস্যরা। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিল করা না হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আসামে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন অখিল গগৈ। বিলটির বিরোধিতা করে গৌহাটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা হাতে কালো ব্যাজ পরেন।

বিতর্কিত এই বিলটির বিরোধিতায় সরব হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত অসমিয়া সাহিত্যিক ডঃ হিরেন গোগাই ও প্রবীন সাংবাদিক মনোজিত মহন্তর বিরুদ্ধে। মামলা দায়ের হয়েছে কৃষক নেতা অখিল গগৈ-এর বিরুদ্ধেও।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালকে হুঁশিয়ারি দিয়ে উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়া জানিয়েছেন, শীঘ্রই বুদ্ধিজীবিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ভয়ঙ্কর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।

এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ ও পুলিশের গুলিতে একাধিক উপজাতি আন্দোলনকারী জখম হওয়ার জেরে ফের অচল হতে চলেছে উত্তরপূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা। আগামী ১২ জানুয়ারি বনধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন উপজাতি সংগঠন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হলে বদলে যাবে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্বের আইন। সেক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে শরণার্থী হিসাবে কেউ ভারতে এলে তাদের আশ্রয় দেবে ভারত সরকার। সেই সঙ্গে তারা পেয়ে যাবে ভারতীয় নাগরিকত্বও। এই সুবিধা পাবেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষরাও।

ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলির বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, এই বিল পাশ হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ আসামসহ গোটা উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে এসে আশ্রয় নেবেন। এই বিল ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তির বিরোধী।

আসামের বিভিন্ন জনগোষ্টী বহিরাগতদের তাদের নিজের এলাকায় আশ্রয় দিতে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছে। ফলে এই বিল নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশই ঘোরালো হচ্ছে গোটা উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুরা।

আসামের দক্ষিন কামরুপ সহ একাধিক জায়গায় বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে অসম সেনা নামে একটি সংগঠন। আসামের আসুসহ ৭০টি সংগঠন এই বিলের বিরোধিতায় একাধিক কর্মসূচী গ্রহন করেছে। বহু জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপি নেতারাও। সব মিলিয়ে এই বিলের বিরোধীতায় আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোব আন্দোলন ক্রমশঃ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close