ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৫

প্রিন্ট

নিজের সিদ্ধান্তে অনড় প্রিয়াঙ্কা

নিজের সিদ্ধান্তে অনড় প্রিয়াঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে শুক্রবার থেকে আটকে রাখা হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তাকে রাজ্যের মির্জাপুর থেকে আটক করেছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। আটক করার পর তাকে চুনার দুর্গের অতিথিশালায় রাখা হয়েছে। এরপর তিনি সেখানেই রাত কাটান।

এ পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে শনিবার চুনার যাচ্ছেন ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ ভাগেল।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রিয়াঙ্কাকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকার বিনিময়ে মুক্তির প্রস্তাব দেয় যোগী সরকার। কিন্তু নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘সরকার চাইলে আমাকে জেলে দিতে পারে। কিন্তু নিহতদের পরিবারেরর সঙ্গে দেখা না করে আমি ফিরবো না। আমি পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।’

গত বুধবার উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে যে ১০ জন নিহত হন তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।

সোনভদ্রা যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হলে মির্জাপুর নামক এলাকার রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেস কর্মীরাও তার পাশেই বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রিয়াঙ্কা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়। তাকে চুনার দুর্গের অতিথিশালায় রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার নিন্দা করে কংগ্রেস বলেছে, আটক নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এক টুইটারে রাহুল বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কার অনৈতিক গ্রেফতার উদ্বেগজনক। ১০ জন আদিবাসী কৃষককে নির্মম ভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা।’

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রিয়ঙ্কাকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকার বিনিময়ে মুক্তির প্রস্তাব দেয় যোগী সরকার। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়, গেস্ট হাউসের আলো। বন্ধ করে দেয়া হয় পানি সরবরাহ। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এখানেই দশ দিন থাকতে হলে থাকব। কিন্তু নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করে একচুলও নড়ব না।’

প্রিয়াঙ্কা উল্টো প্রশ্ন করেন ‘আজ হাসপাতালে একটি ১৭ বছরের বাচ্চাকে দেখলাম। পেটে গুলি লেগেছে। আমার সন্তানের বয়সী। তার মা-ও পাশের বেডে শুয়ে। রাজ্যের আইন কোথায়?’

এই ঘটনার পর তফসিলি জনজাতি জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান নন্দ কুমার সাঁই শনিবার সোনভদ্রে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রিয়াঙ্কার এই রণমূর্তি দেখে দারুণ খুশি কংগ্রেস নেতারা। তারা বলছেন, ‘গত দেড় মাস ধরে এটাই তো দরকার ছিল। রাহুল যা করতে পারেননি তার বোন তা করে দেখাচ্ছেন। গোটা দলকে জাগিয়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা রাহুলের বদলে প্রিয়াঙ্কাকে কংগ্রেস দলের সভাপতি করারও দাবি তুলেছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত