ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:১৩

প্রিন্ট

শত কোটি ডলারের অস্ত্র কিনে কী লাভ হলো সৌদির?

অস্ত্র কিনে কী লাভ হলো সৌদির?
জার্নাল ডেস্ক

হামলা প্রতিরোধে কোটি কোটি ডলারের ব্যয়বহুল সমরাস্ত্র কিনেছে সৌদি আরব। তবে স্বল্প খরচের ড্রোন ও ক্রজ মিসাইলের হামলা ঠেকাতে পারছেনা দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতিবেশী ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে তেল শিল্পক্ষেত্রগুলোতে বারবার হামলা সত্বেও সৌদি আরব এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় কতোটা অপ্রস্তুত তা শনিবারের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে।

গত শনিবার স্বল্প খরচের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় দেশটির বিশাল তেল শিল্প আংশিক পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে।

মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস ভিত্তিক কোম্পানী আরামকো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে তারা।

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ হামলার পেছনে ইরান ছিল বলে তাদের বিশ্বাস।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল থেকে চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে। হামলার ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ইরানি বলে ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদ, কিন্তু হামলাটি ঠিক কোন স্থান থেকে চালানো হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি।

হামলায় ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছিল, কিন্তু তিন মার্কিন কর্মকর্তা হামলায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এতে প্রথমে যা ভাবা হয়েছিল হামলাটি তার চেয়েও উঁচু মাত্রার ও আরও নিখুঁত ছিলে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, এই হামলাটি সৌদি আরবের জন্য ৯/১১ হামলার মতো, এটি খেলা পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো। কোথায় সেই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মার্কিন অস্ত্র, রাষ্ট্র ও এর তেল স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য যার পেছনে আমরা শত শত কোটি ডলার খরচ করেছি? তারা যদি এটি (হামলা) এত নিখুঁতভাবে করতে পারে তাহলে তারা লবনমুক্তকরণ প্লান্ট ও অন্যান্য লক্ষ্যেও আঘাত হানতে পারবে।

তবে তেহরান বলছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরোধীরাই হামলাটি চালিয়েছে। ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এককভাবে এ হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতিতে বহুদিন ধরেই দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্যাট্রিয়ট পদ্ধতি মোতায়েন আছে। প্রধান প্রধান শহর ও স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্যই সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানী রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মোকাবেলা করেছে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পদ্ধতিটি, কিন্তু ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আরও ধীরগতিতে অল্প উচ্চতা দিয়ে চলায় প্যাট্রিয়টের পক্ষে এগুলোকে যথসময়ে শনাক্ত করে ধ্বংস করা কঠিন।

দ্য পলিটিকো ও ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদির আবকাইক ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, সৌদি আরবের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করে দেশটির জনগণ ও তেলক্ষেত্রগুলোকে রক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রাশিয়া।

গত সোমবার তুরস্কে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দুটি প্লান্টে ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলাটি ১৯৯০-৯১ সালে উপসাগরীয় সঙ্কটের সময় সাদ্দাম হুসেন কর্তৃক কুয়েতের তেল কূপগুলো জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ওই অঞ্চলের তেল স্থাপনায় চালানো সবচেয়ে বড় হামলা।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত