ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৫৪

প্রিন্ট

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এনআরসি আতঙ্ক, প্রাণ গেলো চারজনের

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এনআরসি আতঙ্ক, প্রাণ গেলো চারজনের
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক

আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিক তালিকা (এনআরসি) করার হুমকি দেয়ে চলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা। তাদের হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই রাজ্যের লোকজন। এই এনআরসি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের কারণে রাজ্যে এক নারীসহ চারজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে দুইজন আত্মহত্যা করেছেন এবং বাকি দু’জন মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।

মঙ্গলবার ও শুক্রবার এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটেছে রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগণার, জলপাইগুড়িসহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায়।

স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যম জানায়, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে এ কথা শোনার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা ৫২ বছরের আমেনা বেওয়ার। তিনি শুক্রবার বাড়ির দলিলের কাগজপত্র জোগাড় করতে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ৯ নম্বর এলাকায় তার বাপের বাড়িতে যান ৷ কিন্তু সেখানে পুরনো দলিলপত্র না পেয়ে তার ভয় বেড়ে যায়। যার জের ধরে শুক্রবার আরো পরের দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৷

হৃদরোগে আক্রান্ত ওই নারীকে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একই কারণে প্রাণ হারিয়েছেন পশ্চিবঙ্গের বালুরঘাটের মন্টু সরকার (৫২) এবং ইটাহারের সোলেমান সরকার। তারা দু’জনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর মারা যাওয়ার আগে তারা এনআরসি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

এদিকে এনআরসি আতঙ্ক থেকে শুক্রবার আত্মহত্যা করেছেন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বাসিন্দা অন্নদা রায় (৩৯)। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চার বিঘা জমি বন্ধক দিয়ে চাষের জন্য ধার নিয়েছিলেন অন্নদা। এনআরসি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় তার মনে ভয় ঢুকে যায়। জমির কাগজ তো বন্ধক দিয়েছেন, প্রমাণ দেখাবেন কী করে! এই আতঙ্ক থেকেই শুক্রবার ওভারব্রিজ থেকে নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এর আগে এই এনআরসি আতঙ্ক থেকেই মঙ্গলবার আত্মঘাতী হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের মিলন মণ্ডল (২৭) নামে এক যুবক।

সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতারা পশ্চিবঙ্গে এনআরসি হবেই বলে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে চলেছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জোর দিয়ে বলেন, ‘আসাম স্টাইলে পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি হবে। এতে প্রায় দু’কোটি মানুষ বাদ যাবে।’

এর মাত্র একদিন আগে কলকাতা সফরের সময় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও ‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই’বলে হুমকি দিয়েছিলেন।

বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীদের এসব হুমকি ধামকির কারণে এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। যার ফলে শুক্রবার মারা গেলেন ওই বৃদ্ধা।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট আসামের বহুল আলোচিত এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। নতুন এই তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছেন। আর বাদ পড়েছেন ১৯ লাখের বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এ নিয়ে আতঙ্কিত তালিকার বাইরে থাকা মানুষেরা।

এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত