ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৭

প্রিন্ট

সরকারি চাকরিজীবিদের বিশাল সুযোগ দিলো সরকার

সরকারি চাকরিজীবিদের বিশাল সুযোগ দিলো সরকার
জার্নাল ডেস্ক

সরকারি কর্মচারীরা পেলো বিশাল সুযোগ। কোনো অপরাধে দণ্ডিত হলে এক বছর জেল খেটেও চাকরিতে বহাল থাকবেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী। এতে করে একজন অপরাধীকে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দিল সরকার। পুরনো আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে চাকরি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হতেন।

গত ১ অক্টোবর ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ কার্যকর হওয়ার দিন থেকে ছয়টি পুরনো আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ‘গণকর্মচারী অধ্যাদেশ, ১৯৮৫’ (সাজাপ্রাপ্তির কারণে বরখাস্ত) রয়েছে। এই অধ্যাদেশের ৩(১) ধারা অনুযায়ী, ‘...কোনো গণকর্মচারী ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে রায় বা সাজার আদেশ ঘোষণার তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হবেন।’

কিন্তু নতুন কার্যকর হওয়া সরকারি চাকরি আইনে বরখাস্তের বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। এই আইনের ৪২ ধারায় ‘ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা’ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আইনের ৪২(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা এক বৎসর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে, উক্ত দণ্ড আরোপের রায় বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি হইতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হইবেন।’ এতে এর কম দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীর চাকরিতে থাকতে কোনো বাধা থাকল না।

তবে এক বছর পর্যন্ত শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে নতুন আইনে। সরকারি চাকরি আইনের ৪২(২) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনতি করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি করে থাকলে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে সরকার।

কার্যকর হওয়া নতুন সরকারি চাকরি আইনে বেশ কিছু করণিক ভুলও ধরা পড়েছে। এসব ভুল সংশোধনে আগামী সংসদ অধিবেশনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের চাকরিতে বহাল থাকার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘একজন কর্মচারী দোষী সাব্যস্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়াটাকে আমরা অমানবিক হিসেবে দেখেছি। তাই এক বছরের সময় দেওয়া হয়েছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসনসংক্রান্ত একাধিক বইয়ের লেখক ফিরোজ মিয়া বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখার প্রশ্নই ওঠা উচিত নয়। তিনি বলেন, একজন জেলখাটা কর্মচারী জেল থেকে বের হয়ে অফিসে এলে তার সহকর্মীরাই তো অস্বস্তিবোধ করবে। এছাড়া সাধারণ মানুষ একজন জেলফেরত মানুষের কাছে কেমন সেবা আশা করতে পারেন?

এদিকে কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের সরকারি অনুমতির বিষয়ে রিট হয়েছে উচ্চ আদালতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ধারাকে কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ রুল জারি করেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম রিট করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ‘আইনটি নিয়ে আদালতে হওয়া রিট বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, অনেক যাচাই-বাছাই হয়ে জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমার জায়গা থেকে কোনো মন্তব্য করার উপায় নেই।’

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত