ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৫৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:৪০

প্রিন্ট

কুড়িগ্রাম জুডিসিয়াল আদালতে সর্বোচ্চ মামলার নিষ্পত্তি

কুড়িগ্রাম জুডিসিয়াল আদালতে সর্বোচ্চ মামলার নিষ্পত্তি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির সকল আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে সর্বমোট ১১ হাজার ৩৮২ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। গত বছর বিচারিক আদালতে ২৭৯৭টি মামলা নিস্পত্তিসহ মোট ৫৭৮৭ টি মামলা নিষ্পত্তি হয় যা মোট মামলার ১৪৯.৭৩ শতাংশ এবং ৮৪৬৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

বিচারিক আদালতে বর্তমানে ৩৫২২ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৯ সালে মামলা নিষ্পত্তির হার ২০১৮ সালের মামলা নিষ্পত্তির হারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন এবং ২০১৭ সালের মামলা নিষ্পত্তির হারের তুলনায় আড়াই গুনেরও বেশি। মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি হওয়ায় বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিজ্ঞ আইনজীবীগণের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের সর্বমোট ১১ হাজার ৩৮২ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। যার মধ্যে সি.আর/পিটিশন মামলা ৩ হাজার ৩৭৯টি, জি.আর-মামলা ৬ হাজার ৭২৪ টি, নন.জি.আর মামলা ২ হাজার ৫৩ টি, মিস কেস- ৪৬৫ টি, ক্রিমিনাল আপীল ৩৩টি ও এস.এল ২৩৮ টি।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৮ হাজার ২৯৬টি। যার মধ্যে সি.আর মামলা ২ হাজার ৭০৫টি, জি.আর- মামলা ৫ হাজার ৭৭ টি, নন.জি.আর মামলা ৩১৫ টি, মিস কেস- ০৭ টি, ক্রিমিনাল আপীল ১৭ টি, এস.এল ৬৫ টি।

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত এই আদালতে সর্বমোট ৫ হাজার ৬৪৮টি মামলা দায়ের হয়। যার মধ্যে সি.আর/পিটিশন মামলা ২ হাজার ৮৮টি, জি.আর মামলা ২ হাজার ৬৮৪টি, ননজিআর মামলা ১৪১ টি, মিস কেস ৪৬৬টি, ক্রিমিনাল আপীল ৪৯ টি, এসএল ২২০টি।

জেলার বিজ্ঞ আইনজীবি ও সাবেক পিপি এডভোকেট রেহেনা খানম জানান, কুড়িগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির মামলা নিষ্পত্তির হার এবং সাক্ষ্য গ্রহণের হার সমগ্র বাংলাদেশের ম্যাজিস্ট্রেসির জন্য একটি মডেল। কুড়িগ্রামের মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব হাসান মাহমুদুল ইসলামের যোগ্য নেতৃত্বে পূর্বের তুলনায় বার-বেঞ্চ ও পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসির সমন্বিত উদ্যোগে বিচারিক কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলার নিষ্পত্তি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে মামলা নিষ্পত্তি হলে মামলা জট কমে যাবে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ শাহ আলম বলেন, বর্তমান চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদুল ইসলাম মহোদয়ের যোগদানের পর হতে তার অধীনস্ত আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার ও সাক্ষ্য গ্রহণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে ৯ জন বিচারক কর্মরত আছেন। কুড়িগ্রাম জেলায় আমলী আদালত ১১ টি ও বিচারিক আদালত ৯ টি। বর্তমানে বিচারিক কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলা দ্রুত বিচারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ কারণে মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাননীয় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় অত্র ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত বিচারকগণকে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিকরণে প্রেরণা স্বরূপ প্রতি মাসে পুরস্কৃত করে থাকেন। এ সফলতার জন্য বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় জেলার বিজ্ঞ আইনজীবী ও পুলিশ বিভাগের সকলকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত