ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ১১:০০

প্রিন্ট

অফিস থেকে পদত্যাগ করবেন যেভাবে

অফিস থেকে পদত্যাগ করবেন যেভাবে
জার্নাল ডেস্ক

চাকরিটা ছেড়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন। এখন আর ভালো লাগছে না বা মন বসতে চাইছে না এই অফিসে। হয়তো ভাবছেন হুট করেই যাবো, পদত্যাগের সব আনুষ্ঠানিকতা মিটিয়ে যেতে হবে কেন! এটা ভাবলে আপনি ভুল। অফিস একটি শ্রদ্ধা আর মর্যাদার জায়গা। সেখান থেকে মাথা নিচু করে লুকিয়ে চলে যাওয়ার থেকে সবাইকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকতা মেনেই তারপর বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিন। এগুলো নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

চাকরিটা ছাড়ার প্রয়োজন ভালো কারণ

চাকরি ছাড়ার একেবারে নিশ্চিত হয়ে নিন যে ছাড়ার কারণটি যথেষ্ট কিনা। হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ভুল করে বসছেন না তো। চাকরি করতে ভালো লাগে না বলে ছেড়ে দেবেন, এমনটাও ভাববেন না। আরেকটা ভালো উপার্জনের পথ রয়েছে কিনা, সেটা ভেবেই ছাড়ুন। আর যদি অবস্থা বেশি বেগতিক হয় তো ছাড়ুন ভেবে চিন্তে।

অফিস থেকে সম্মান নিয়ে বের হন

চাকরি ছাড়ার সময় এমনভাবে ছাড়ুন যেন আগের কর্মস্থলে আপনাকে নিয়ে কোনো বাজে ধারণা না থাকে। চলে যাওয়ার আগেই আপনার জমে থাকা সব কাজ শেষ করে যান, আপনার দায়দায়িত্ব আরেকজনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে যান। আপনার বসকে সবকিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে বের হন।

কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে জানিয়ে দিন

চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন। এটি সাধারণ একটি নিয়ম। আপনার চাকরিটি যদি চুক্তিভিত্তিক হয় তাহলে চুক্তিতে যতদিন আগে জানানোর কথা রয়েছে সেই সময় মেনে পদত্যাগের কথা জানান। ছাড়ার আসল কারণটা জানিয়ে যাওয়াই ভালো।

যেভাবে জানাবেন অফিসে

আপনি যখন আপনার বস বা ম্যানেজমেন্টকে চাকরি ছাড়ার কথা নিজ মুখে বলবেন, বা পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন তখন কিছু বিষয়ে আপনাকে স্পষ্ট হতে হবে। যেমন আপনি কবে চাকরি ছাড়বেন, কেন চাকরি ছাড়ছেন, আপনার কোনো কাজ বাকি রয়েছে কিনা সেগুলো পরিস্কার করে যাবেন। কিন্তু আপনার কোনো ক্ষোভ বা রাগ-অভিযোগ থাকলে সেটা হড়বড়িয়ে বলতে যাবেন না।

জমা দিন পদত্যাগপত্র

অনেকে পদত্যাগপত্র জমা না দিয়ে বা কোনো আনুষ্ঠানিকতা না মেনে হুট করে চলে যায়। এটা একদমই ঠিক নয়। আপনাকে আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। আপনার অফিসে যেই ফাইলটা রয়েছে, পদত্যাগপত্রটি সেখানে জমা হবে। মানে অফিসে আপনার সব তথ্য জমা থাকলো, পরে কোনো কারণে তথ্য লাগলে আপনি সহজেই সেটা পাবেন।

কীভাবে লিখবেন পদত্যাগপত্র

পদত্যাগপত্রের ভাষা এমন হওয়া উচিত যেন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আপনার সুসম্পর্ক বজায় থাকে। কর্মস্থল ছাড়ার তারিখ, কারণ প্রভৃতি স্পষ্ট ভাষায় লেখা জরুরি। কোনো সমস্যা থাকলে সেটা উল্লেখ না করাই ভালো। খুব ছোট করে সুন্দর সাবলীল ভাষায় ধন্যবাদ জানিয়ে পদত্যাগপত্রটি লিখুন।

ই-মেইলে পদত্যাগপত্র

ব্যক্তিগতভাবে সিনিয়র বসকে জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চাকরি ছাড়া একটি ভালো উপায়। তবে আজকাল ইমেইলে পদত্যাগপত্র পাঠানো অনেকটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন ইমেইলে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিদের পদত্যাগের কথা জানিয়ে ‘সিসি’ ইমেইল পাঠানোর তাগিদ দিয়ে থাকে। ইমেইলের ক্ষেত্রেও পদত্যাগপত্রের আকার ছোট ও সরল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

টেলিফোনে পদত্যাগের কথা

টেলিফোনে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানোটা ভালো দেখায় না। তবে কর্মস্থলে গিয়ে পদত্যাগের কথা জানানোর অবস্থা না থাকলে বা কোনো কারণে ইমেইল করতে না পারলে তখন আপনি ফোনের দ্বারস্থ হবেন। প্রয়োজনে ঝামেলা মিটিয়ে পরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা মেনে নিতে পারেন।

সবার কাছ থেকে ভালোভাবে বিদায় নিয়ে আসুন

উর্ধ্বতন ও সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে কর্মস্থল থেকে বের হন। তাদের সঙ্গে সম্ভব হলে ভালো কোনো সময় কাটিয়ে আসুন। যখন জানবেন যে আপনার পদত্যাগপত্রটি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছে, তখনই বিদায়ের প্রশ্ন আসছে। সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা অনুযায়ী সামনাসামনি দেখা করে, ইমেইল বা ফোনেও বিদায় নিতে পারেন।

আর পদত্যাগের সময়ে কিছু বিষয়ে খেয়াল রেখে যাবেন। আপনার বকেয়া বেতন, বোনাস বা ক্ষতিপূরণ, পেনশন পলিসি, ছাড়পত্র ও সম্ভাব্য রেফারেন্সসহ সব ধরনের দেনা-পাওনার হিসাব বুঝে নিন। কারণ পরে এগুলো দেওয়া-নেওয়া নিয়ে আপনার সঙ্গে সমস্যা হতে পারে। প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নষ্ট হতে। তাই সব চুকিয়ে বের হন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত