ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৬

প্রিন্ট

মহেশখালীর রাখাইন পল্লীতে একদিন

মহেশখালীর রাখাইন পল্লীতে একদিন
মাইন সরকার

মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ। এ দ্বীপে পাহাড়ের উপরে রয়েছে আদিনাথ মন্দির এছাড়াও এ দ্বীপে রয়েছে বৌদ্ধ বিহার, জলাবন, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি, রাখাইন পল্লী ও স্বর্ণ মন্দির। ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে ১৫৫৯ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এ দ্বীপের সৃষ্টি হয়। আবার অনেকে মনে করেন, বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর থেকে মহেশখালী নামটি পরিচিত হয়। এখানে পাওয়া যায় মিষ্টি পান, মাছ, শুঁটকি, চিংড়ি, লবণ মাঠ এবং মুক্তা।

বাঁকখালী নদীর কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী মোহনা পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মহেশখালী। বাঁকখালী নদী মিয়ানমারের একটি পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে ধুপছড়ি, গর্জনিয়া এবং কুতুবদিয়া মহেশখালী সাগর চ্যানেলের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

যাচ্ছি মহেশখালীর দিকে, কক্সবাজার ছয় নাম্বার ঘাট থেকে যেতে হয়। লাইফ বোটে চল্লিশ টাকা ভাড়া আর স্পিড বোটে পঁচাত্তর টাকা। ঘাটে নেমে দিতে হয় পাঁচ টাকা। যাওয়ার সময় স্পিড বোটে উঠে বসলাম। আমার সাথে আরো বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মহেশখালী দ্বীপ দেখার জন্যে। দিগন্তের আকাশে তখন মধ্যদুপুর আর ফেনায়িত সমুদ্রে তখন প্রচণ্ড রোদ। তাই একটি কালো চশমা চোখে লাগিয়ে নিলাম। মহেশখালীর প্রতি আমার আগ্রহ আছে। কারণ ছেলেবেলায় একটি গান শুনতাম...

‘যদি সুন্দর একটি মুখ পাইতাম তবে মহেশখালীর মিষ্টি পান তারে বানাই খাওয়াইতাম।’

আমি কিন্তু পান খাইনা তবুও মহেশখালীর মিষ্টি পান খাওয়ার ইচ্ছে আমার মাঝেও আছে। তুমুল বাতাস আর সাগরের দুপাশে সুন্দরী আর প্যারা গাছের সারি মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। মন যেনো প্রকৃতির লীলা ভূমিতে পতিত হয়েছে। আর বোটে জলের ঢেউয়ে ঢেউয়ে যেনো নিজেকে সমর্পণ করে দিয়েছি ষোড়শী সমুদ্রের কাছে। কিছুক্ষণ পরই মহেশখালী ব্রিজে যেয়ে থামলো বোটটি। বোট থেকে নামতেই এক রিকশাচালক ধরে বসলো তার রিকশা দিয়ে যেতে হবে। তার নাকি এখন সিরিয়াল। আমিও তার রিকশাতেই উঠে বসলাম। তাকে সাথে নিয়েই ঘুরবো। প্রথমে আমাকে রিকশাচালক নিয়ে গেলো আদিনাথের মন্দির, তারপর লবণ মাঠ। লবণ মাঠ থেকে সোজা মৈনাক পাহাড়ে, পাহাড়ের নিচে ছোটো ছোটো দোকান নিয়ে বসে আছে রাখাইন পল্লীর জোয়ান মেয়েগুলো। দোকানগুলো রাখাইনদের হাতের কারুকাজ, চাদর, পাঞ্জাবিতে সজ্জিত। আমাকে দেখেই এক রাখাইন মেয়ে ডাক দিয়ে কাছে নিলো। তখন মহেশখালীর মিষ্টি পান খাচ্ছি আর রাখাইন মেয়েটির সাথে গল্পে মেতে ওঠেছি। আমাকে দেখে মেয়েটি তার কাস্টমার মনে করলো।

তারপর চলে গেলাম মহেশখালী শুটিং ব্রিজ দেখতে। শুটিং ব্রিজে যেয়ে মনে হলো ছিপ নিয়ে আসলে এখানে বসে মাছ ধরতে পাড়তাম। জেটিতে একা বসে আছি তখন এক মামা বলে ওঠলো, মামা এখানে একা একা মজা নাই আবার আসলে সাথে কাউকে নিয়ে আসবেন। আর শুটিং ব্রিজ থেকে খুব সহজেই সাগর দেখা যায়...

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত