ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ১৪:৪৯

প্রিন্ট

পুলিশের এতো অর্জন-ম্লান হবে কেনো?

পুলিশের এতো অর্জন-ম্লান হবে কেনো?
রাজীব কুমার দাশ

আমি একলা চলো নীতি'তে বিশ্বাসী। একলা চলতে-থাকতে-বলতে পরিস্থিতি-সময় বাধ্য করে চলেছে। পরিবার হতে চিন্তা করুন! আমার-আপনার আপনজন চোখের পলকে-হাসির ঝলকে ভোল পাল্টে, যেদিকে স্বার্থ সেদিকে ঝুঁকে চলেছে। সে স্বার্থ মানবীয় হলে সমস্যা হতো না! কিন্তু আজ চরম নিষ্ঠুর অমানবীয় হিংসা-বিদ্বেষ, বলতে না পারা কান্না খেকো কষ্ট নিয়ে নিভৃতে পথচলায় আমাদের জীবন। একটি দেশে চলার পথে চরম স্বার্থান্ধ, হিংসা, নিন্দা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার-সমাজ-দেশ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারে না। সামনে, পেছনে, ডানে, বামে তাকালে মনে হয় কেউ আপন বিশ্বাসী নিরাপদ নয়। ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের সুখ দর্শন মানে চোখের অসুখ-বাতের ব্যথা। কেউ কারো সুখ- সমৃদ্ধি এখন আর সহ্য করতে পারছে না।

হত্যা, কুৎসা, গুম, ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল, মাছের প্রজেক্টে বিষ ঢেলে সর্বস্বান্ত, পশু হত্যা, এমনকি নিষ্পাপ ফলজ, বনজ বাগান ধ্বংস করে মনের হিংসা-জ্বালা মিটিয়ে সিজোফ্রেনিয়া রোগির কৃত্রিম সুখ নেন। গ্রাম, উপশহরে বেড়ে ওঠা মেধাবি প্রজন্মের পেছনে মাদক, সুড়সুড়ি কথিত প্রেম লেলিয়ে মনের কোণে জমে থাকা হিংসা চরিতার্থ করেন। মোদ্দাকথা কেউ একটু ভালো থাকুক, ভালো চলুক, কারো সহ্য হচ্ছে না। আমরা কি আস্তে-আস্তে সিজোফ্রেনিয়া রোগি হয়ে মানসিক স্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলছি?

মনের অনেক কথা লিখতে-বলতে চাই। সাহস হয় না! কখন কার, কিভাবে ইগো-ইস্যুর কারণ বনে বলি পাঁঠার অভিশপ্ত প্রাণী হয়ে যাই। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কোনো সুস্থ ব্যক্তি কমেন্টস বক্স শেষ করার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তুই হতে শুরু! পরিবারের সবাইকে দিগম্বর করে চরমে-চরম পাণ্ডিত্য উপহার দিয়ে-কখন, কোথায়, কিভাবে আমাকে/আপনাকে ঘিরে দিগম্বর সাহিত্য রচিত হবে ঘুনাক্ষরেও টের পাবেন না।

মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা-অর্জন, নতুন করে বলার কিছু নেই। সবারই জানা। জাতির পিতা কীভাবে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য একতাবদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে কীভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হতে চলেছে তা দৃশ্যমান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এমডিজি বাস্তবায়ন, লিঙ্গ সমতা,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি,দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প,পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, দেশের অসংখ্য মেগা প্রকল্পসহ অগুনিত জনবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ, সরকারের অন্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান জাতির জনকের হাত ধরে মানবীয় প্রতিষ্ঠান হয়ে দেশ-বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করে চলেছে। জনগণ ও পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি- ‘ভিশন’ সমৃদ্ধি নিয়ে তর-তর করে এগিয়ে চলেছে। আপামর জনগণের সমৃদ্ধি ভিশনে পরিপূরক হয়ে কাজ করছে। বন্যা, খরা, জঙ্গি নির্মুল, জাতীয় ৯৯৯ জরুরি সেবা, রাত জেগে পাহারা, ভর দুপুরের রোদ গিলে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-পাসপোর্ট সেবা, জিডি, মামলা রুজু, সামাজিক প্রাণময় নিবিড় বন্ধনে দীর্ঘসময় লেগে থাকা সম্পত্তি বিরোধ নিরসন, পারিবারিক সহিংসতা রোধ, সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করা, এমনকি নিরিহ গরীবদের টাকা দালাল-টাউট-বাটপারদের নিকট হতে পেতে সাহায্য করে চলেছে। করোনা মহামারি সংকট, রাষ্ট-সমাজের প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ যে কোনো জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দেশ-জনগণের পাশে থেকেছে। করোনা মহামারিতে বাংলাদেশ পুলিশের সেবা, নিজেদের রেশন, ঘরে ঘরে চুপিসারে নিম্ন-মধ্যবিত্তের সন্মানে পৌঁছে দেয়া, খাবার, চিকিৎসা এমনকি মৃতদেহের সৎকার বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্যরা নির্ভয়ে করে চলেছেন। সে দায়িত্ব পালনে করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেক করোনাযোদ্ধা পুলিশ সদস্য দেশ মাতৃকার সেবা দিয়ে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। ফেসবুক, টুইটার, পত্রিকা, মিডিয়া সব টিভি চ্যালেন একযোগে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রসংসা করেছে। প্রেরণা যুগিয়েছে। দৃঢ়তা নিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশ পুলিশের একদিনের সেবা কার্যক্রম-যদি গেজেট হতো? তা হতো অগুনতি।

বাংলাদেশ পুলিশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইনি প্রতিষ্ঠান। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ, জনগণ পুলিশের সম্মিলিত অংশীদারিত্ব এ প্রতিষ্ঠান কে সমৃদ্ধ করে চলেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন বাংলাদেশ পুলিশের অহংকার। অনেকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির বর্ণনা করে প্রশ্ন তুলবেন? তোলাই স্বাভাবিক! সিটিজেনস চার্টার, পেনাল কোড, ফৌজদারি কার্যবিধি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, বাংলাদেশ সংবিধান, সুনাগরিক সংগা দায়বদ্ধতা পুলিশ জনগণ সবার উপরই বর্তায়। পুলিশের উপর ইংরেজ আমল হতে ধারণাগত ক্ষোভ বিদ্বেষ, অস্পৃশ্য প্রজাতি ভাবনা হতে আমি-তুমি-সে কেউই -এ একবিংশ শতাব্দীতে এসে বের হতে পারিনি।

বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যই এ দেশের সন্তান। কারো ছেলে, বাবা, ভাই-মা-বোন। সব প্রতিষ্ঠানে ভালো-মন্দ ব্যতিক্রম থাকবেই। এ পর্যন্ত যে কোনো ধরনের পুলিশ সদস্যদের অপরাধ, অপেশাদারিত্ব আচরনে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যক্তির দায় নেয়নি। অপরাধী হিশেবে দেখেছে। সে নিরিখে আজ বাংলাদেশ পুলিশের সফল নেত্বত্ব ভর করেছে, পুলিশ প্রধান ড.বেনজীর আহমেদ, ডিআইজি হাবিবুর রহমান, এসপি সামসুন্নাহারসহ অনেক মোটিভেশনাল স্পীকার-র হাতে। জনগণ ও পুলিশের সম্মিলিত অংশীদারিত্বে প্রাণময় আইনি ও মানবিক সেবায় বাংলাদেশ পুলিশ সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে চলেছে অনেকদুর।

প্রাবন্ধিক ও কবি পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত