ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : ২৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২

প্রিন্ট

অসুস্থ হয়ে পড়ছে ভারতের গণতন্ত্র

অসুস্থ হয়ে পড়ছে ভারতের গণতন্ত্র
অমল পালেকার
অনলাইন ডেস্ক

ভারত সরকার কোনো রকম বিরোধিতা বা সমালোচনা সহ্য করতে রাজি নয়। সরকারের এই অসহিষ্ণুতা নিয়ে গোটা দেশে বিতর্ক হলেও সরকারের তাতে কোনো যায় আসে না। যেন অপছন্দের যাবতীয় কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দেওয়া একটা অঘোষিত রেওয়াজ শুরু হয়েছে ভারতে।

একাধিপত্যবাদীদের সাম্প্রতিক নিশানা পরিচালক অমল পালেকর। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ‘ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্ট’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন। এক প্রয়াত শিল্পীর ছবির প্রদর্শনীর উদ্বোধনে আমন্ত্রিত ছিলেন অমল পালেকর। সেই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ‘ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্ট’-এর সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু কথা বলেন তিনি।

ওই গ্যালারির মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু কেন্দ্রে কোন কোন প্রদর্শনী হবে, আগে তা নির্ধারিত হত স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে গঠিত একটি উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে। এখন ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সরাসরি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে বলে মন্তব্য করেন অমল পালেকর। কিন্তু এ নিয়ে মহা বিরক্ত হন গ্যালারির নিয়ন্ত্রকরা। তারা অমল পালেকরকে বলেন, তিনি শিল্পীর প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে এসেছেন, শুধুমাত্র সেই বিষয়েই ভাষণ সীমাবদ্ধ রাখা হোক, অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই।

অথচ যে মঞ্চে অমল পালেকর ভাষণ দিচ্ছিলেন, তা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন না। শিল্পীদের অনুষ্ঠান, শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধাদের জমায়েত, সেখানে ভাষণ দিচ্ছেন এক শিল্পী। পরিবেশ এবং পরিস্থিতি কতটা উদার হওয়া উচিত, সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা গেল। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতেই গ্যালারির কর্মকর্তারা থামানোর চেষ্টা করলেন অমোল পালেকরকে।

সরকারের সমালোচনা করা যাবে না— দেশ জুড়ে এখন এই রকম একটা পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। কেন্দ্র হোক বা বিভিন্ন রাজ্য— সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই দেশদ্রোহী তকমা পেতে হচ্ছে। অথবা প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হচ্ছে, অথবা অমোল পালেকরদের মতো বাধা পেতে হচ্ছে, অপমানিত হতে হচ্ছে।

কখনও শিল্পীর গান থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাঝপথে, কখনও বাদ্যযন্ত্রীর অনুষ্ঠান আটকে যাচ্ছে, কখনও নাটকে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে, কখনও প্রখ্যাত শিল্পীকে সাদরে ডেকে এনেও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে তার ভাষণের রূপরেখা। পরমত অসহিষ্ণুতা এ ভাবেই এক দুর্ভাগ্যজনক চেহারা নিচ্ছে ভারতে।

যে ছবিটা তৈরি হচ্ছে, তা অগণতন্ত্রের ছবি। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পথ চলছে ভারতীয় গণতন্ত্র। দিন যত গিয়েছে, ততই পরিণত হয়েছে এই গণতন্ত্র। কিন্তু আচমকা অসুস্থতার নানা উপসর্গ মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে দেশটার নানা প্রান্তে, নানা অংশে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক কাঠামোটা যেন আর সুস্থ থাকতে পারছে না। এই অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দিলে কিন্তু খুব বড় ভুল হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক উদারতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রয়েছে যাদের, অবিলম্বে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয় হতে হবে। এই অসুস্থতার নিরাময় না ঘটালে অদূর ভবিষ্যতে পচন ধরতে পারে ভারতীয় গণতন্ত্রের শরীরে।

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close