ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৫

প্রিন্ট

সব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সময়ের দাবি

সব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সময়ের দাবি
ভূপেন্দ্র নাথ রায়।।

নন-এমপিও শিক্ষকরা এমপিও’র আশায় বছরের পর বছর জীবনের সোনালী মূহুর্তগুলো অভুক্ত থেকেই পার করে এসেছে। এই শেষ সময়ে যদি তাদের ভাগ্যাকাশে অমানিশা না কাটে তাহলে সারাজীবন বিড়ম্বনায় কাটাতে হবে। বাকি জীবনটা ধুঁকে ধুঁকে কাটাতে হবে এতে কোন সন্দেহ নাই। বেতন না থাকার কারণে এমনিতেই সমাজে নামমাত্র শিক্ষকের মর্যাদা নিয়ে কোন রকমে জীবন ধারণ করে বেঁচে আছে এই অভুক্ত শিক্ষকরা।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর সরকারি সুযোগ সুবিধার বাইরে থেকে অবিচল শিক্ষার আলো যেভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে। কতদিন একজন মানুষের পক্ষে দিনের পর দিন অভুক্ত থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষা দিয়ে যেতে পারে তা ভাবার বিষয়।পৃথিবীর আর কোন দেশে এভাবে শিক্ষক সমাজ অবহেলিত, উপেক্ষিত কিনা তা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটায়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ শিক্ষামন্ত্রীর এ বিষয়ে বোধগম্যতা আছে। নিশ্চয় তারা এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওকরণ এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের সুপারিশে প্রায় তিনশত প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। সংবাদটা অবশ্যই ভালো। কারণ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরো তিনশত এমপিওভুক্তির তালিকায় যুক্ত হবে। তবে এই সংযুক্তিতে যেন কোন যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাদ না পরে সেটি প্রথমে ভেবে দেখতে হবে।বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তার নিজস্ব গতিতে তখন এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেকার, অভুক্ত রেখে মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক। নন-এমপিও শিক্ষক ফেডারেশন একই সাথে সকল প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে পঞ্চাশ শতাংশ বেতন-ভাতা প্রদান করার দাবি করেছেন। তাদের দাবী যুক্তিসংগত এবং ন্যায্য।

মন্ত্রণালয় যখন একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানের অনুমোদন থেকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন এসকল প্রতিষ্ঠান বেতন-ভাতার আশায় দেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আপামর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছেন।আর যদি এতসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সম্ভব না হয়, তাহলে নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন কিংবা স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে কি? কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও অনুমোদন ও স্বীকৃতি পাচ্ছেন। সচেতন নাগরিকের কাছে বিষয়টি গোলমেলে মনে হয়।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওকরণের দায়িত্ব সরকারের তথা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের। এ দায়িত্ব সরকার এড়িয়ে যেতে পারেন না। যদি সময় থাকতেই এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না নেয়া হয়, তাহলে এতসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, স্বীকৃতি কেন দেয়া হলো স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে অভুক্ত শিক্ষকদের মনে। সন্তান জন্ম দিলে তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পিতা-মাতার ওপরই বর্তায়। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনা দরকার যাতে কোন প্রতিষ্ঠান বাদ না পড়ে এবং ডিজিটাল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম কারিগর শিক্ষকদের প্রাণের দাবী পূরণ করাই এখন সময়ের দাবী।

লেখক: শিক্ষক

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত