ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২০, ২২:০১

প্রিন্ট

সাক্ষাৎকারে জাফরুল্লাহ চৌধুরী

৩৫০ টাকায় করোনা পরীক্ষা, প্রথম মাসেই সুবিধা পাবে ১ লাখ মানুষ

৩৫০ টাকায় করোনা পরীক্ষা, প্রথম মাসেই সুবিধা পাবে ১ লাখ মানুষ
ফাইল ছবি
কিরণ শেখ ও তৌফিক ওরিন
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে জাফরুল্লাহ চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এবার তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিশ্বের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কিট উদ্ভাবন করেছে। এই কিট সরকার উৎপাদনের অনুমিত দিয়েছে কি না বা কিট কবে থেকে উৎপাদন শুরু হবে এবং কত টাকায় সাধারণ মানুষ এই কিট দিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে পারবেন- এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন কিরণ শেখতৌফিক ওরিন বাংলাদেশ জার্নাল: কিট উৎপাদনের কারখানা কোথায় তৈরি হবে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: কারখানা সাভারে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: কারখানা তৈরির কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: কারখানা হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল: কাজ শুরুর কতদিনের মধ্যে আপনারা কিট বাজারজাত করবেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমরা কিট ১ মাসের মধ্যে বাজারে ছেড়ে দেবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: করোনাভাইরাসের কিট তৈরি করতে কত সময় লেগেছে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমরা কাজ করছি দুই বছর ধরে। তবে ওই সময় আমরা ডেঙ্গুর উপরে কাজ করছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাস দেখা দেয়ার পর- অর্থাৎ গত তিন মাস ধরে আমরা এই গবেষণা করোনাতে নিয়ে আসি।

বাংলাদেশ জার্নাল: কার নেতৃত্বে এবং কতজনের টিম এই কিট তৈরির গবেষণা করেছেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: ড. বিজনকুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নাহিদ জামির, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন এবং ড. ফিরোজ আহমেদ তিন মাসের চেষ্টায় এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনাভাইরাস পরীক্ষার যে কিট উদ্ভাবন করেছে, সরকার কি তা উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমাদের কাঁচামাল আনার জন্য অনুমতি দিয়েছে। আমাদের কাঁচামাল এক সপ্তাহের মধ্যে চলে আসবে। আর কাঁচামাল চলে আসার পরে সরকারকে ট্যাক্সের বিষয়টি ঠিক করতে হবে। এরপর আমরা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ্যানাফ স্যাম্পল দিতে পারবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনারা এক মাসে কত কিট উৎপাদন করতে পারবেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমাদের প্রথম মাসের উৎপাদন দিয়ে এক লাখ মানুষের টেস্ট করা যাবে। অর্থাৎ আমরা এক মাসে ১ লাখ কিট উৎপাদন করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কত টাকায় কিট বাজারজাত করবে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমরা কিট ২৫০ টাকায় বাজারজাত করতে চাই। আর সাধারণ মানুষ যেন এটা ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার করোনা পরীক্ষা করতে পারে- সেটা সরকারকে নির্ধারণ করে দিতে হবে ।

বাংলাদেশ জার্নাল: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সরকারকে ২৫০ টাকা কিট দেবে, এই কিট কি বাইরে বেশী টাকা বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা আছে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: অবশ্যই। এটা বাইরে ২০০০ টাকায়ও বিক্রি হতে পারে।

বাংলাদেশ জার্নাল: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উৎপাদিত কিট দিয়ে জানা যাবে যে করোনা আছে কি না, কিন্তু এর চিকিৎসা কি?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: এটা চিকিৎসা না। কিট করোনা শনাক্ত করার প্রথম ধাপ। এরপর তো চিকিৎসা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আপনাকেও এবং বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত