ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ১২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২০, ২০:০১

প্রিন্ট

পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকা

পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়ায় মানব পাচারের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মানবপাচারে জড়িত এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে তারা করতে সক্ষম হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের মাঝে একটি এজেন্সির একজন পিয়নও রয়েছেন। সেই পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০-৩০ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন সিআইডির তদন্তাকারীরা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান।

তিনি জানান, লিবিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদেরও নজরদারিতে রেখেছে সিআইডি।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কুয়েতে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম পাপুলের বিষয়ে কুয়েতে তদন্ত চলছে। যে অভিযোগ কুয়েত সরকার তুলেছে, সে বিষয়ে সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা বলব, ধৈর্য ধরুন।

সংসদ সদস্য মো. শহিদ ইসলাম পাপুলের সম্পর্কে অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এছাড়াও এটি আন্তর্জাতিক একটি ইস্যু হওয়ায় অনেক বিষয়ে বিবেচনা করেই কাজ করতে হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জানাতে পারব। পাশাপাশি লিবিয়ায় ২৬বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন মূলহোতাকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। তাদের ধনসম্পদেরও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছে না সিআইডি।

সিআইডি প্রধান আরো বলেন, মানবপাচারকারীদের বিষয়ে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা দুটি তালিকা পেয়েছি। এছাড়াও পাচার হওয়া ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন দেশের অ্যাম্বাসি থেকে অনেক নাম পাওয়া গেছে। তাদেরও আমরা নজরদারিতে রেখেছি। মানবপাচারকারী যারা আটক হয়েছে তাদের কাছ থেকেও আমরা অনেক নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা মানবপাচারকারী চক্রের গডফাদারদের বিষয়ে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করছি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে অবশ্যই সামনে নিয়ে আসব।

তিনি বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মামলার বিষয়ে আমরাতদন্ত শুরু করেছি। প্রথমে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করতে হয় এরপর যে তথ্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে মামলা হয়। এবং সেই মামলার তদন্ত সিআইডি করে থাকে। এখন পর্যন্ত আমরা তিনজন ব্যক্তির ফাইল অপেন করেছি। তাদের বিষয় তদন্ত চলছে। সিআইডির তদন্তকে আরও গতিশীল করার কাজ চলছে। আগে ষাট বা সত্তর শতাংশ ক্ষেত্রে মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর সিআইডি নির্ভর করতে, এখন ষাট থেকে সত্তর শতাংশ ফরেনসিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

বিভাগটি ২২ ধরনের মামলা তদন্ত করে থাকে। ৮২ ভাগ ক্ষেত্রে তারা অভিযোগপত্র দিয়েছে, তবে সাজা হয়েছে ২৪ ভাগ ক্ষেত্রে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন শাস্তির হার কম জানতে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। বিচারক, আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত কমিটি মাসখানেকের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। আর লিবিয়ায় বাংলাদেশের ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ২৬ টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫ টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্য সিআইডি ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। একজন পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০-৩০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত