ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৬

প্রিন্ট

এ এক অচেনা বইমেলা

এ এক অচেনা বইমেলা
ছবি- নিজস্ব

বিনায়েক রহমান কীর্তি

সন্ধ্যা নামার ঠিক পরমুহূর্ত। তথ্য সংগ্রহ বুথ থেকে মাইকে ঘোষনা আসছে এখন আর কাউকে মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ছ'টা আর মিনিট ত্রিশেক পরেই যে বন্ধ হয়ে যাবে বহুল কাঙ্খিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা। যেখানে মানুষ মেলায় আসে সন্ধ্যার পর সেখানে এমন ঘোষণা দেওয়া মানে যেনো মেলার আর কিছুই না থাকা!

ফেব্রুয়ারী পেরিয়ে মার্চ, সেই মার্চেরও গোটা দিনেক পনেরো পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস পর ১৮ মার্চ শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। কিন্তু সেই মেলার ১০-১২ দিন যেতে না যেতেই যেন আবারো হানা দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস। তারই প্রেক্ষিতে মেলা পরিদর্শনের সময়সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন।

নতুন সূচি অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রাত্যহিক বইমেলা শুরু হয় বেলা তিনটায় এবং শেষ সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায়। সেই হিসেবেই সন্ধ্যা শুরুর সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হয় মেলার প্রবেশ পথ।

এদিকে তিনটায় মেলার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হলেও কোনো ভিড় ছিলোনা মেলায়। সাধারণত প্রতি বছর সন্ধ্যার পর রাতে জমে ওঠে বইমেলা। কিন্তু এবার যেনো ঠিক তার উল্টো। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই ঘোষণা আসে মেলা বন্ধের। যার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেলায় আসা দর্শনার্থী, প্রকাশক ও লেখকেরা।

এমনিতেই করোনায় আনাগোনা কমেছে এবারের বইমেলায় তার উপর এমন সিদ্ধান্ত যেন মাথায় বাজ পড়েছে প্রকাশকদের। অনেক বড় জায়গা নিয়ে এবারের বইমেলা আয়োজন করলেও পাঠক তেমন নেই একটা বললেই চলে।

এছাড়া লেখকদের আনাগোনাও যেন কমেছে এবারের বই মেলায়। যেখানে প্রতি বছর মেলার পুরো সময় জুড়ে স্টলে স্টলে লেখকদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় এবার তেমন একটা নেই বললেই চলে। কয়েকটি স্টল ঘুরে মাঝে মাঝে লেখকদের দেখা মেলে তাও আবার ছুটির দিন বা বিশেষ দিনে।

মেলায় বই কিনতে আসা এক তরুণ পাঠক রাব্বি রহমান যে কিনা বছর দুয়েক আগে প্রায় দিনই যেতো বইমেলায় কিন্তু এবার বইমেলার সতেরো দিন পেরিয়ে গেলেও মাত্র একবারই এসেছেন তিনি। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন তিনি, দু'বছর আগে বেশ কয়েকবার বইমেলাতে গিয়েছি। বলতে গেলে প্রতিদিনই। তখন পৃথিবীতে করোনা ছিলো না। বাস ভাড়া দ্বিগুণ ছিলো না। মন চাইলেই ভাষার পুরো মাসের যেকোনো দিন মেলায় ছুটেছি। প্রিয় কত লেখককে দেখেছি। ছবি তুলেছি, গল্প করেছি। বই কিনেছি।

তিনি আরও বলেন, আর এবছর আজ প্রথম মেলায় আসলাম। মেলা চলছে ঠিকই কিন্তু কোথায় যেনো কিছু একটা নেই। ঢুকেই একরাশ শুন্যতা, একেকটা স্টল একেক জায়গায়। এ যেন প্রাণহীন এক বইমেলা! খা খা করছে দশনার্থী শুণ্যতায়। শুধু দশনার্থী না, আগের মতো লেখকদেরও দেখা মেলে না মেলা প্রাঙ্গণে। সবার মুখে মাস্ক। না, এমন তো কখনো চাইনি!

এদিকে বইমেলায় দর্শনার্থী কম হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকেই দায়ী করছেন লেখক মীর রবি। তিনি বলেন, প্রতি বছর বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ থাকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীরা কিন্তু এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে পাঠক সমাগম কম হয়েছে।

মীর রবি আরও বলেন, পাঠকসংখ্যা একদমই যে নেই তা নয়, হয়তো সময়টা কম হওয়ায় দর্শনার্থীরা আসতে পারছে না তবে মানুষ বইমেলায় আসছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত