ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৪৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

এজলাসে অসুস্থ সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ২০:৩৮

এজলাসে অসুস্থ সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার শুনানিতে এজলাসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে এজলাস কক্ষের একটি বেঞ্চে বসিয়ে তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। সেখানে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ও ব্লাড প্রেসারসহ নিজের বিভিন্ন অসুস্থতার কথা তুলে ধরেন সাবিনা আক্তার।

‘জয় বাংলা ব্রিগেডের’ জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার’ অভিযোগে ওই মামলা হয়েছিল গত বছর।

মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল বুধবার। কারাগারে থাকা সাবিনা আক্তারসহ ৩৪ আসামিকে আদালতে আনা হয়। জামিনে থাকা অপর ৬ আসামিও হাজিরা দেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার পর আসামিদের এজলাসে নেওয়া হয়। সাবিনাসহ কয়েকজন নারী আসামিকে এজলাসের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর মামলার শুনানি শুরু হয়।

এদিন কয়েকজন আসামির অব্যাহতির বিষয়েও শুনানি হয়। আগামী ১৪ জুলাই অপর আসামিদের অব্যাহতির বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছে আদালত।

শুনানির একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবিনা। তখন একটি বেঞ্চে বসে পড়েন তিনি।

এসময় সাবিনা আক্তার তার আইনজীবী পলাশী মজুমদারকে বলেন, “আমারে যা করার করুক, আর যেন আমাদের না আনে। সেই ভোর বেলা নিয়ে আসা হয়েছে। খারাপ লাগছে। মনে হয় ডায়াবেটিস নেমে গেছে। প্রেসার বাড়ল না কমল তা বুঝব কেমনে। কোনো আইন নাই, রুলস নাই।

“আমি ডায়াবেটিস, হার্টের রোগী। ভোর বেলা নিয়ে আসা হয়। কলা আর রুটি দেয়। কলা খেতে পারি না, নষ্ট। আর আমাদের কোনো খাবার দেয় না। আমরা আর তো পারি না। সকাল থেকে বসায় রাখছে।”

এসময় সাবিনার এক স্বজন তাকে চকলেট ও পানি দেন।

সাবিনার আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি আদালতকে বলেন। পরে শুনানি শেষ হওয়ার আগেই তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আইনজীবী পলাশী মজুমদার বলেন, “তিনি (সাবিনা আক্তার) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ভোরে নিয়ে আসা হয়। তেমন খাবার দেওয়া হয় না। কলা-রুটি দেয়, তা খেতে পারেন না।”

গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে এ মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংয়ে অংশ নেন দলটির কয়েকশ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘উৎখাতের’ নির্দেশ দেন তিনি।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ বরিশাল বিভাগের কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।

মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক। এরপর ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২১ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জন পলাতক।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত