ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৯, ১৭:১৯

প্রিন্ট

যেভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক চক্র

যেভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক চক্র
অনলাইন ডেস্ক

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতো প্রতারক চক্রটি। পরে তাদেরকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে শেয়ার হোল্ডার বানানোর লোভনীয় অফার দেয়া হতো। ভিকটিমরা তাদের প্রস্তাবে রাজি হলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেতো।

এভাবে প্রতারক চক্রটি গত ১৫ বছর ধরে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে ১০০ কোটির টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর একটি টিম রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম, উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভুয়া নথিপত্র ও সরঞ্জামাদিসহ এই চক্রের ২২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

আটককৃতরা হলেন, ইমরান হাসান (২৭), হুমায়ুন কবির হালিম (৫৭), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৯), আব্দুল বারী, আব্দুল আউয়াল (৪০), শাহাদাত হোসেন (৩০), মিনহাজ (৫৬), কামরুজ্জামান (৪৬), হাবিবুর রহমান (৩৫), সঞ্জিত সাহা (৩৪), মেহেদি হাসান হাবিব (৩১), ইউসুফ (৫৩), মামুনুর রশীদ চৌধুরী (৩৪), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ওরফে আব্দুল জলিল (৫০), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৬৪), ও মিজান (৩৫)।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানী কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য জানান।

মুফতি মাহমুদ বলেন, সুসজ্জিত অফিস ও দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলতো চক্রটি। পরে টার্গেট করা লোকদের কৌশলে অফিসে এনে ভুয়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে নিত তারা। তাদের বলা হতো এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরে কিছু দিন যাওয়ার পর তাদের কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার করার প্রস্তাব দিতো চক্রটি।

এই প্রস্তাবে ভিকটিমরা রাজি হলে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অফিসসহ উধাও হয়ে যেত প্রতারকরা।

তিনি বলেন, এই প্রতারক চক্রটি অন্য সব প্রতারক চক্রের মতো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো না। তারা প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতো। প্রতিটি গ্রুপে ৫ টি স্তরে তাদের সদস্যরা কাজ করতো।

স্তরগুলো হল সাব ব্রোকার, ব্রোকার, ম্যানেজার, চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ কোম্পানির প্রধান বস।

মোট পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে তারা এই প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন, এনজিও সেজে বিনা খরচে সোলার প্যানেল স্থাপনের চুক্তি, ইট-পাথর, রড-সিমেন্ট. গার্মেন্টস, ঠিকাদারি দেয়ার কথা বলে এবং অফিসে নিয়ে এসে তাস খেলার ফাঁদে ফেলে ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতো চক্রটি।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close