ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৯

প্রিন্ট

আওয়ামী লীগ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে: আমিনুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে: আমিনুল ইসলাম
তৌফিক ওরিন

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। ছাত্রলীগের মাধ্যমেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আশির দশকে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি ওয়ার্ড ইউনিট থেকে শুরু করেন রাজনীতি। পরবর্তীতে মহানগর ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরপর তিনবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নাম লেখাতে সক্ষম হন। সর্বশেষ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

ছাত্র রাজনীতি শেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন আমিন। দলটির কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে কিছু দিন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ দলের উপ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জার্নালের সাথে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন আমিনুল ইসলাম আমিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিক ওরিন

বাংলাদেশ জার্নাল: শোনা যাচ্ছে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদে পাস হয়েছে, এখন এটি যদি বাদ দেয়ার চিন্তা ভাবনা করা হয় তাহলে বিষয়টা স্ববিরোধী হবে কি না?

আমিনুল ইসলাম: কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে নৌকা প্রতীক থাকবে কি থাকবে না এ ধরনের কোনো প্রসঙ্গই আসেনি। কিছু অনলাইনভিত্তিক পত্রিকা কিসের ভিত্তিতে এই নিউজ করছে সেটা আমার জানা নেই। শুধু আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকে নয়, আওয়ামী লীগের কোনো দায়িত্বশীল ফোরামে নৌকা প্রতীক উঠিয়ে দেয়ার আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল: আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। আসন্ন কাউন্সিলের প্রস্তুতি কতটুকু?

আমিনুল ইসলাম: বলা যায় কাউন্সিলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করে। গতবার বিভিন্ন কারণে সময় মত কাউন্সিল করতে না পারলেও সেবার বিশেষ বর্ধিতসভা ডেকে সময় বাড়িয়ে নিয়েছিল, যেটা আমাদের গঠনতন্ত্রের বিধান। আওয়ামী লীগ সব সময় সকল বিধান পরিপালন করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী অক্টোবরে কাউন্সিল হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যেই ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। যারা কিছু দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কোথায় কোথায় কোন টিম যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ সাংগঠনিক জেলার কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। সম্মেলনের আগে এসব জায়গায় নতুন কমিটি দেয়া হবে কি না?

আমিনুল ইসলাম: এগুলো করানোর জন্যই বিভাগীয় টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো সাংগঠনিক সফর শেষ করে আসার পরেই এই বিষয়ে একটা ক্লিয়ার চিত্র পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতারা আগের মত সরব নন। সাংগঠনিক সফরে তারা থাকবেন কি না?

আমিনুল ইসলাম: এখানে সামান্য ইনফরমেশন গ্যাপ আছে। গত মার্চ মাসে তিনটি জাতীয় প্রোগ্রাম করেছে ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে। তিনটি প্রোগ্রামে আমু ভাই, তোফায়েল ভাইয়ের মত সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের আগে যে ট্যুরগুলো হবে সখোনে তারা যাবেন, ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের প্রোগ্রামে আমু ভাই যাচ্ছেন। তবে এই বয়সে পার্টি অফিসে নিয়েমিত এসে শ্রম দেয়া কি আদৌ এই মুহূর্তে তাদের জন্য সম্ভব?

বাংলাদেশ জার্নাল: ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। ২০২০ সালটাকে আওয়ামী লীগ মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছে। মুজিব বর্ষ পালনে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা কী?

আমিনুল ইসলাম: মুজিব বর্ষ পালনের জন্য ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে একটি কমিটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটি, যেটার চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়কারী প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, এই কমিটির সাথে আওয়ামী লীগ রিলেটেড যারা আছেন তাদের সাথে সমন্বয় করে কমিটি করা হয়েছে। সারা দেশে উৎসব পালনের একটি সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে। খুব শিগগির আমরা এই বিষয় নিয়ে সারা দেশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, প্রচার ও উপ-প্রচার সম্পাদকদের ডাকবো। সারা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থাৎ গ্রামে গ্রামে বিস্তার ঘাটাতে যা যা করণীয় সেগুলো আমরা করবো। একই সাথে এই বিষয়ে তৃণমূলের নেতাদের ভাবনা তুলে এনে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। এগুলোর সব কিছুর প্রধান হয়ে সুপারভিষন করছেন আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ জার্নাল: আওয়ামী লীগের সার্বিক ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনাটা কেমন হবে?

আমিনুল ইসলাম: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিল। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ পরাধীন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপ্নকে পরিপূর্ণতা দিয়েছিলো। আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতার স্বপরিবারে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে। তখনই আমাদের পথচলা থমকে দাড়ায়। এর পরে একুশ বছর আওয়ামী লীগ এদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অবস্থায় ছিল। আবার ৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে ক্ষমতায় আসে। ওই সময়ে সম্ভবত পৃথিবীর তৃতীয় বিশ্বের একমাত্র দেশ ছিল বাংলাদেশ, যেই দেশে গরিব মানুষকে বিভিন্ন ভাতা দেয়ার দুঃসাহস শেখ হাসিনা দেখিয়েছিলেন এবং যেটা আজকে পূর্ণতা পাচ্ছে। যে কারণেই তার নেতৃত্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেকটি স্বপ্ন দেশের মানুষকে দেখিয়েছিল। তখন এটা নিয়ে অনেকে হেসেছিলেন, অনেকে তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু আজকের বাস্তবতা সেটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে স্বপ্ন দেখায়, সেটা নির্বাচনী ফানুসের মত নয় যে নির্বাচন শেষ হলে ফুটো হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সেটা বাস্তবায়ন করে। আজকের বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ফোরজি চালু হয়েছে এবং ঘরে বসেই মানুষ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের নানা সমস্যার সমাধান করছেন। যেটা ব্যাসিক্যালী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল। আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে থেমে থাকেনি।

২০০৮ সালেই আমাদের একটা ঘোষণা ছিল যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি নিন্ম মধ্যবিত্ত আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করবো। শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উপনীত হয়েছি। এবং আওয়মী লীগ দেশ মাটি মানুষ নিয়ে কাজ করে বলেই সারা পৃথিবী যখন অর্থনৈতিক মন্দায় জর্জরিত, তখন বাংলাদেশ সেটার আচ না লাগিয়ে লেস ডেভোলপমেন্ট কান্ট্রি থেকে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের কাতারে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা আর একটি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিলাম, যেখানে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা ঊঁচু করে দাঁড়াবে এবং একই সাথে আমরা ডেল্টা প্লান দিয়েছি। স্বাধীনতার শতবছরে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাড়াবে। এগুলো দিয়েই আমরা থেমে থাকিনি, এগুলো অর্জনের জন্য পারিপার্শ্বিক যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা দরকার সেই কর্মকাণ্ড শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলছে। সুতরাং আওয়ামী পরিকল্পনা এগুলোর মধ্য দিয়ে দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close