ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৫ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ১৬:১২

প্রিন্ট

পাঁচ শিশু-কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র

‘তান্ত্রিক শক্তি’র আশায় শ্মশানে ভয়ঙ্কর কাণ্ড

‘তান্ত্রিক শক্তি’র আশায় শ্মশানে ভয়ঙ্কর কাণ্ড
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘তান্ত্রিক শক্তি’র আশায় শ্মশানে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটনায় শিশু-কিশোরদের ছোট্ট একটি দল। তাদের দলনেতার বয়স ১৮ বছর, বাকি পাঁচজনের বয়স আরও কম। দলনেতা রুদ্রর আচরণ ও চলাফেরা রহস্যময়। তার মাথায় লম্বা চুল, হাতে শাঁখা। তার বিশ্বাস, গভীর রাতে শ্মশানে গিয়ে কালী সাধনা করলে মিলবে ‘তান্ত্রিক শক্তি’। অলৌকিক সেই শক্তি দিয়ে অসম্ভবকেও জয় করা যাবে।

এই গল্প শুনিয়ে সে দলের পাঁচ শিশু-কিশোরকে প্রভাবিত করে। এরপর তারা রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশানে গিয়ে সমাধি খুঁড়ে বের করে আনে এক শিশুর মৃতদেহ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে উপস্থিত লোকজনের। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে আটক করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে রুদ্রর নির্দেশে ঘটে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই আমিরুল ইসলাম বলেন, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিশু-কিশোরদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অভিযুক্ত আরেকজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে। তদন্তে মৃত শিশুর মাথা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সম্প্রতি রুদ্রর বিরুদ্ধে চার্জশিট ও পাঁচ শিশুর বিরুদ্ধে ‘দোষীপত্র’ দেয়া হয়েছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার একটি হাসপাতালে জন্ম নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার বাবার নাম রবীন্দ্র চন্দ্র দত্ত ও মা সবিতা রানী। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হয় পোস্তগোলা শ্মশানে। এরপর গভীর রাতে কয়েক শিশু-কিশোরের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে শ্মশানে অবস্থানরত একজন সমাধিস্থলে যান। তখন তিনি শিশুটির সমাধি খোঁড়া এবং অদূরে একটি কাগজে রক্ত দেখতে পান। অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শিশুটির দ্বিখণ্ডিত মৃতদেহ খুঁজে বের করেন। পরে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পলাশ চক্রবর্তী নামে একজন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত সংশ্নিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রথমে শিশুর মৃতদেহ সমাধি থেকে তুলে মাথা বিচ্ছিন্ন করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, কালীপূজা করার উদ্দেশ্যেই তারা গভীর রাতে শ্মশানে যায়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। অবশ্য তাদের মধ্যে কে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ, তারা প্রত্যেকেই অন্যজনের কাঁধে দোষ চাপিয়েছে। এতে বোঝা যায়, তারা ঘটনায় জড়িত থাকলেও ভয়ে স্বীকার করতে চাইছে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের চাপ দেয়াও সম্ভব হয়নি।

তবে এ দলটির প্রধান রুদ্র আগে থেকেই তন্ত্র সাধনা করে বলে জানা গেছে। সে কারও কাছে এমন গল্প শুনেছে যে শিশুর মৃতদেহ তুলে মাথা কেটে নিয়ে কালীকে উৎসর্গ করলে তন্ত্রশক্তি পাওয়া যায়। এটি বিশ্বাস করে স নিজে বিভ্রান্ত হয় এবং অপর পাঁচ শিশুকেও বিভ্রান্ত করে। তাদের দাবি, ওই সময় ঠিক কী ঘটেছে, তা কেউ বুঝতে পারেনি। কারণ, রুদ্রর তন্ত্রমন্ত্রের প্রভাবে তখন তারা একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। দীর্ঘসময় তাদের বাকশক্তিও ছিল না। পরে তারা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রুদ্র ইংরেজি মাধ্যমে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। আরেকজন এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে পড়ালেখা ছেড়ে দেয়। একজন তার বাবার চায়ের দোকানে কাজ করে। বাকিরাও ছাত্র, নয়তো শ্রমিক। তারা সবাই নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। তাদের কারও বাবা নরসুন্দর, কেউ দোকান কর্মচারী, আবার কেউ দোকানি। আর রুদ্রর বাবা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, বিভ্রান্ত এই শিশু-কিশোরদের কর্মকাণ্ডের কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তপন ঘোষ। তিনি জানান, এভাবে অলৌকিক শক্তি বা তান্ত্রিক ক্ষমতা পাওয়া যায় বলে ধর্মীয় কোনো বিধান নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close