ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪৩

প্রিন্ট

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে একহাত নিলো ন্যাপ

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে একহাত নিলো ন্যাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক হাজার কর্মকর্তার ‌‘খিচুড়ি রান্না’ শিখতে বিদেশ যাওয়া বেশ আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। যদিও করোনা সংক্রমণের কারণে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সমালোচনাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করে।

বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফিডিং কার্যক্রম আরও উন্নত করতে খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন শিখতে বিদেশে যাওয়া নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিয়ে হৈ চৈ করার মতো অবস্থা নেই।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা এ কথা বলেন।

‘প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকতায় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঢুকে পড়েছে বলে যে মন্তব্য করেছেন’ তাকে হাস্যকর ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ অবিহিত করে তারা বলেন, গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও ব্যর্থতার সংবাদ প্রকাশিত হলেই তা তথা কথিত ছায়া ‘বিএনপি-জামায়াত’ এর কথা বলে আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। প্রতিমন্ত্রী দেশের মানুষকে বোকা মনে করলেও মানুষ এতটা বোকা নয় যে, খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্য কী এবং এতে জড়িত কারা তা বুঝে না।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সকল ভালো কাজ আজ এসব ব্যর্থ ও দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয় দানকারীদের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। মন্ত্রীদের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে অসৎ আমলারা হাত ধোয়া শেখা, পুকুর খনন, গরুর প্রজনন, আলু ও ধান চাষের অভিজ্ঞতা অর্জন, খিচুড়ি রান্না ও বিতরণ শিক্ষার নামে লুটপাটের এক উৎসব চালাচ্ছে। আর ব্যর্থ মন্ত্রীরা এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্য়কর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তা আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। দিন শেষে সকল ব্যর্থতার দায় নিচ্ছেন নিজেরা। তার ভবিষ্যত পরিণতি খুব বেশি সুখকর হবে না।

তারা বলেন, শুধুমাত্র সরকারি টাকা অপচয়ের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিদেশ ভ্রমণ বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকার করোনাকালীন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যায় নিপতিত। গ্রামীণ অর্থনীতি মন্দার মধ্য অতিক্রম করছে। চাকরি হারিয়ে দিশেহারা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ। রেমিট্যান্সের চাকা প্রত্যাশা মাফিক ততটা সচল নয়। বিদেশে কর্মসংস্থান ধীরে ধীরে কমে আসছে। এমন এক জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিলাসী প্রস্তাব যারা প্রস্তুত করতে পারে তাদের শুধু ধিক্কার নয়, চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনাটা জরুরি। তা না করে যখন সরকারের মন্ত্রীরা এসব দুর্নীতিবাজদের আড়ালের চেষ্টা করেন তখন বুঝতে হবে জনগণের ভাগ্যে ভবিষ্যতে আরো দুর্ভোগ রয়েছে।

আরো পড়ুন

‘খিচুড়ি রান্না’ নিয়ে হৈচৈ করার কিছু নেই: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যাবেন ডিপিই’র ১ হাজার কর্মকর্তা!

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে প্রশিক্ষণ, যা বললেন গণশিক্ষা সচিব

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত