ঢাকা, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ২৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:২৬

প্রিন্ট

খুলনায় সমাবেশে বিএনপি

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজপথের বিকল্প নেই

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজপথের বিকল্প নেই
ছবি- নিজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, বর্তমান সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। রাজপথ থেকেই সবকিছু আদায় করতে হবে।

শনিবার খুলনা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। ‍‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে’ খুলনা মহানগরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা মহানগরের দুই স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অনুমতি না দেয়ার শহরের কেডি ঘোষ রোডস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এদিন সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগরীর প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এসময় সমাবেশ স্থলে আসার সময় নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। বাধা-বিপত্তির পরও সমাবেশে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরুর আগেই পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়।

সমাবেশকে ঘিরে এদিন সকাল থেকেই সারা শহরের মোড়ে মোড়ে ভ্যান, জলকামান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশিও চালায় পুলিশ। বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

এরআগে সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনার সমাবেশে নেতাকর্মীদের যোগ দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। পথিমধ্যে তার গাড়ি বহরে পুলিশ এবং সরকার পক্ষের লোকেরা বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, একটা বিষয় আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে যখন অনেকেই বলেন আমরা শেখ হাসিনার কাছে অনেক কিছু দাবি করি ও ভিক্ষা করি। আরে ভাই আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল করি। আমরা কারো কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের সবকিছু আদায় করে নেব। রাজপথে আমাদের সবকিছু আদায় করতে হবে। মিয়ানমারে মানুষ সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের গুলির সামনে মাথা নত করছে না তারা। যদি এখন কথা না বলি তাহলে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশও এই সরকার পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। এ সরকারের আর বেশি দিন নেই। এদেশের যত অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে সরকারের লোকেরা সব করছে। তাই আসুন এই অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারকে হটিয়ে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।

সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখন যে দেশ আমরা দেখছি, এর জন্য কি এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল? এ দেশ লুটেরারা শেষ করে দিয়েছে। দেশে হায়েনার রাজত্ব কায়েম করেছে। এভাবে আর একটা দেশ চলতে পারে না। দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই আর দেরি নয়। রাজপথেই আমাদের আসল ফায়সালা করতে হবে।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সমাজে থাকতে হলে এই সমাজের নিয়ম মানতে হবে। উল্টাপাল্টা কোন কিছু করে রেহাই পাওয়া যাবে না। পথে পথে যেখানেই আটকানো হয়েছে, যত পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম যে, কেন আপনারা এরকম করছেন? বলছে আমি জানি না, উপর মহলের নির্দেশ। দ্বিতীয় জায়গায় এসে জিজ্ঞেস করলাম কেন এরকম করছেন? বলছে আমি জানি না, উপরের নির্দেশ। আরে ভাই কত উপরে? সবার উপরে তো আল্লাহর আরশ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকে এই প্রোগ্রামের নমুনা দেখে প্রমাণিত হয় দেশে কতোটা পুলিশী শাসনতন্ত্র কায়েম হচ্ছে। এই দেশে এখন আমাদের ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। কিছু বললেই মামলা হামলা গুম ও খুন করা হয়। এই অন্যায় অত্যাচার আর মেনে নেয়া যায় না। সারাদেশে আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর আমরা এই বলদ মার্কা নির্বাচন কমিশন দেখতে চাই না। আমরা আরেকটি নিরপেক্ষ কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দাবি করছি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের এই সভা পণ্ড করার জন্য সরকারের পেটোয়া বাহিনী আমাদের সকল নেতাকর্মীদের পদে পদে বাঁধা দিয়েছে। অনেক হয়েছে, আর না। আমরা আর কোন বাঁধা মানবো না। এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ। আমরা কারও দাসত্ব মানবো না। তাই আসুন সকলে মিলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মজিবুর রহমান সারোয়ার, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী হাসান রুমি, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

কেএস/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত