ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৯

প্রিন্ট

আসছে বুলবুল, জটিলতায় আবহাওয়া অধিদপ্তর

আসছে বুলবুল, জটিলতায় আবহাওয়া অধিদপ্তর
অনলাইন ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় সতর্ক সংকেত বাড়ালেও কারিগরি জটিলতায়’ ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ওয়েবসাইটে হালনাগাদ কোনো তথ্য দিতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফনীর সময়ও একই ধরনের জটিলতায় পড়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য এসেছে আবহাওয়া অধিদদপ্তর ও বিটিসিএলের পক্ষ থেকে। জটিলতা আসলে কোথায়, সে বিষয়টি কোনো পক্ষই খোলাসা করেনি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে আবহাওয়ার ১৩ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। সেই বুলেটিন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেসবুক পেইজেও প্রকাশ করা হয়।

সকালে সেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় পরিণত হয় অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে থাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সংকেত বাড়িয়ে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলে।

অথচ এরকম জরুরি সময়ে সেই তথ্য ওয়েবসাইটে দেখাতে পারছিল না আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিকাল পর্যন্ত ওয়েবসাইটের টিকারে ৩ নম্বর সংকেতের কথা দেখানো হচ্ছিল। বুলেটিন দেখতে ক্লিক করলে দেখানো হচ্ছিল আগের রাতের পুরনো বুলেটিন।

এমনকি ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের’ ফেসবুক পেইজেও দুপুর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল আগের বিজ্ঞপ্তি।

তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধিদপ্তরের কর্মীরা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছিলেন। টেলিভিশনেও মাঝে মধ্যে তাদের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে দেখা যাচ্ছিল।

শুক্রবার বেলা দেড়টায় ফেইসবুকে এক পোস্টে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে ৪ নম্বর সংকেত জারির করা জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিন্তু তখনও তাদের ওয়েবসাইটে ৩ নম্বর সংকেতের টিকার চলছিল।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওয়েবসাইটে হালনাগাদ বুলেটিন দেওয়া সম্ভব হয় জানিয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, আশা করি শিগগিরই পুরো স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

এদিকে সারাদিন ওয়েবসাইটে ঝড়ের খবর না পেয়ে অনেকে অধিদপ্তরের ফেইসবুক পেইজে চেষ্টা করেন। সেখানে তাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হটলাইন ১০৯০ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাতেও কোনো তথ্য না পেয়ে অনেকেই সমালোচনায় মুখর হন ফেসবুকে।

টিপু সুলতান নামের একজন লেখেন, ১০ বার ট্রাই করেও একবার লাইন পাওয়া যায় না।

ফিরতি বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, ‘ভাই এই সময়টায় ইউজার বেশি হয়ে থাকে এবং নেটওয়ার্ক বিজি থাকে... আশা করি আপনারা শুনতে পাবেন।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘হটলাইনে আমি নিজেও ট্রাই করেছি। ১০ মিনিট চেষ্টা করে পূর্বাভাস শুনতে পেরেছি। ঘূর্ণঝড়ের কারণে সবাই এখানে ফোনের চেষ্টা করছে, এজন্যে হয়ত অনেকে পাচ্ছে না। ওয়েবসাইটেও ইউজার বেড়েছে, তাতে হয়ত ঝামেলা রয়েছে।’

অন্যদিকে বিটিসিএলের পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) মীর মোহাম্মদ মোরশেদ তাদের দিকে কোনো সমস্যা নেই দাবি করে বলেন, ‘ইন্টারনেট ডিভিশন সব চেক করে দেখেছে, আবহাওয়া অফিসের সাথেও কথা বলেছে। আমাদের ইন্টারনেট নিয়ে ওদের কোনো সমস্যা নেই। তাদের হোস্টিংয়ে সমস্যা থাকতে পারে, এটা আমাদের আওতায় পড়ে না।’

গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফনীর সময় একসঙ্গে বেশি ট্রাফিক সামলাতে না পেরে দীর্ঘ সময় অচল থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। তখনও বিটিসিএলের ইন্টারনেট ও সার্ভার সেবাকে দায়ী করা হয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে বিটিসিএল তা অস্বীকার করেছিল।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত