ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১ মিনিট আগে
শিরোনাম

আইসিসির কাছে বিসিবির অর্থায়ন বন্ধের আবেদন, আলোচনায় বুলবুল

  স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৭

আইসিসির কাছে বিসিবির অর্থায়ন বন্ধের আবেদন, আলোচনায় বুলবুল
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল - ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আর্থিক সহায়তা ও ক্রিকেট-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে। যদিও পরে তিনি এমন অনুরোধ করার কথা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল চলতি সপ্তাহের শুরুতে আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটে আইসিসির আর্থিক সহায়তা এবং ক্রিকেট-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে পুনর্বহালের দাবিও করেন।

চিঠিতে বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বৈধতা নিয়েও আপত্তি তোলেন বুলবুল। বিষয়টি আইসিসি পরে বিসিবিকে অবহিত করলে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংস্থাটির কাছে পাল্টা চিঠি পাঠায়। তবে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় বুলবুল দাবি করেন, তিনি কখনোই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হতে পারে- এমন কোনো অনুরোধ আইসিসির কাছে করেননি। তার ভাষ্য, আইসিসির অর্থায়ন বন্ধের আবেদন করার খবরটি সত্য নয়।

কিন্তু বুলবুলের এই বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি তার পাঠানো চিঠির একটি অনুলিপিতে। গণমাধ্যমের হাতে আসা ওই নথিতে বর্তমান বিসিবির জন্য আইসিসির অর্থায়ন ও ক্রিকেট-সংক্রান্ত সহায়তা স্থগিত রাখার সুস্পষ্ট অনুরোধের উল্লেখ রয়েছে। এমনকি সেখানে আমিনুলের স্বাক্ষরও আছে।

সেই চিঠির একটি অংশে ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শিরোনামে লেখা হয়েছে, “বিসিবিকে বর্তমানে প্রদেয় বা পরিশোধযোগ্য আইসিসির সকল তহবিল এসক্রোতে (শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা) রাখা হবে বা স্থগিত করা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া, যতক্ষণ না: (ক) নির্বাচিত বোর্ডের পুনঃস্থাপন অথবা আইসিসি ডিআরসি কর্তৃক একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; এবং (গ) বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হয়। ০৭ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করে এমন কোনো ব্যক্তিকে আইসিসির কোনো তহবিল প্রদান করা যাবে না।”

‘বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি’ শিরোনামে আরেকটি অংশে লেখা হয়েছে, “একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো যে: (ক) একটি অবৈধভাবে গঠিত অ্যাডহক কমিটি দ্বারা রাজনৈতিকভাবে কারসাজি করা ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচালিত ২০২৬ সালের ৭ম মাসের নির্বাচনটি আইসিসি সংবিধানের ২.৪(গ) এবং ২.৪(ঘ) ধারার আরও একটি গুরুতর লঙ্ঘন; (খ) আইসিসি ২০২৬ সালের ৭ই জুন তারিখে নির্বাচিত কোনো বোর্ডকে বিসিবির বৈধ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; (গ) আইসিসি নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছে, এবং (ঘ) আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করতে ব্যর্থ হলে, আইসিসির ২.১০(ক) ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতকরণ, আইসিসির তহবিল জব্দকরণ এবং আইসিসি ইভেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়া।”

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম ইকবাল চার বছরের জন্য বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন বুলবুল এবং এ বিষয়ে আইসিসির হস্তক্ষেপও কামনা করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত