ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৯, ১৮:৩৩

প্রিন্ট

সামুদ্রিক বর্জ্যে তৈরি লঙ্কানদের বিশ্বকাপ জার্সি

সামুদ্রিক বর্জ্যে তৈরি লঙ্কানদের বিশ্বকাপ জার্সি
স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ জার্সি নিয়ে কী তুলকালাম কাণ্ডটাই না হলো বাংলাদেশে! জার্সি উন্মোচন করে, অফিসিয়াল ফটোসেশনের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক আর সমালোচনা। সবুজ জার্সিতে লাল রঙ না থাকাতেই আপত্তি টাইগার ভক্তদের। আরো মোটা দাগে বললে, জার্সির ডিজাইনটাই আকৃষ্ট করতে পারেনি তাদের। ফলাফল পরিবর্তন এসেছে সেই জার্সিতে।

ঠিক যেন বিপরীত অবস্থা শ্রীলঙ্কায়। খেলার মাঠে ভঙ্গুর আর অনভিজ্ঞ লঙ্কানরা বিশ্বকাপের আগেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপ জার্সি দিয়ে। শুক্রবার কলম্বোর এক হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয় বিশ্বকাপ ও অনুশীলন জার্সি। তুলে দেয়া হয় লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নের হাতে।

শ্রীলঙ্কার চিরায়ত গাঢ় নীল আর হলুদের সংমিশ্রণে এই জার্সি শুধু তাদের দেশে নয়, মন কেড়েছে বাংলাদেশের ভক্তদেরও। ডিজাইন তো আকৃষ্ট করতেই পারে, কিন্তু সেখানে প্লাস্টিক আসলো কিভাবে?

আসল কথায় আসা যাক। বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার এই প্লাস্টিক যেমন সহজ করেছে জীবন, তেমনি এর সহজলভ্যতা কঠিন এক বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে পৃথিবীকে। পচনশীল নয়, তাই তো এই প্লাস্টিকের চাহিদা বেশি। আর এখানেই সমস্যা। প্লাস্টিক শত শত বছর ধরে টিকে থাকে। ব্যবহারের পর ছুঁড়ে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের নানান জিনিস পৌঁছে যায় নদীতে। চলতে থাকে এক মোহনা থেকে আরেক মোহনায়, এরপর চূড়ান্ত জায়গা হয় সমুদ্রে।

বিশাল সমুদ্রের জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে মুলত এই প্লাস্টিকের কারণে। আর বলাই বাহুল্য, সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কায় এর প্রভাব একটু বেশি।

গেল কয়েক বছর দেশটির নৌবাহিনী চেষ্টা করছিলো সমুদ্র থেকে প্লাস্টিব বর্জ্য সরাতে। কিন্তু শুধু সরালেই তো হবে না। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে। একই সাথে ব্যবহত প্লাস্টিককে রিসাইকেল করে তা পুনর্ব্যবহার করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। আর বিশ্ববাসীকে প্লাস্টিকের পরিমিত এবং পুনর্ব্যবহার বিষয়ে সচেতন করতে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে বেছে নিয়েছে দেশটির নেভি।

সমুদ্র থেকে তুলে আনা প্লাস্টিক বর্জ্যেকে ব্যবহার করা হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জার্সিতে! প্রথমে প্লাস্টিক থেকে বিশেষ ধরণের মণ্ড তৈরি হয়েছে, এরপর সেখান থেকে ফেব্রিক। যে ফ্রেব্রিকের নান্দনিক ব্যবহারে তৈনি হয়েছে ঝলমলে লঙ্কান জার্সি।

কাজটা সহজ ছিলো না। কিন্তু প্লাস্টিকের পরিমিত এবং পুনব্যর্বহার বিষয়ে মানুষকে সচেতনতা করার লক্ষ্যে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সাহায্যে সেই কঠিন কাজটি সম্ভব করেছে সে দেশের পরিবেশবাদীরা। এবারের বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ে তাই মালিঙ্গা-ম্যাথুসরা তাদের জার্সি দিয়ে শুধু দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন না, একই সঙ্গে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতীকীভাবে তুলে ধরবেন প্লাস্টিক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার বার্তাও।

লঙ্কানদের গায়ে ভারতীয় মহাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি জার্সি এবারের বিশ্বকাপে তাই যোগ করতে চলেছে এক নতুন মাত্রা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত