রোনালদোকে নিয়ে দশটি অজানা তথ্য
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৯, ১১:১৯

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সর্বসেরাদের একজন। পর্তুগালের ছোট্ট একটা শহর মাদেইরাতে জন্ম নেয়া এক বালক ভাগ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। বছরখানেক আগে মাদ্রিদ সমর্থকদের কাঁদিয়ে পাড়ি জমান ইতালিতে। ফুটবল নক্ষত্রের জীবনের দশটি অজানা এবং চমকপ্রদ তথ্য নিয়েই করা হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।
১. মাত্র ১৪ বছর বয়সে বের করে দেয়া হয়েছিল স্কুল থেকে!
রোনালদোর বয়স যখন ১৪ তখন সে কোন এক কারণে রেগে গিয়ে তার স্কুলের শিক্ষিকার দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মেরেছিল! ব্যস, আর যায় কোথায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মাকে সঙ্গে সঙ্গে ডেকে পাঠাল এবং তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করে দিল। স্কুলে ছেলের এই কাণ্ড দেখে রোনালদোর মা চিন্তা করল ছেলেকে আর পড়াশোনা করিয়ে তেমন লাভ হবে না, বরং ছেলে যেহেতু ফুটবল ভাল খেলে এবং তা মন থেকে পছন্দ করে তাহলে সে ফুটবলটাই ভাল করে খেলুক।
রোনালদোর মায়ের এই সাহসী সিদ্ধান্তই পাল্টে দিল ‘ক্রিশ্চিয়ানো রুনালদু দুস সান্তুস আভেইরু বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’ এর জীবন। পৃথিবী পেয়ে গেল একজন অসাধারণ ফুটবলারকে।
২. ফ্রেন্ডলি ম্যাচ বদলে দিয়েছিল তরুণ রোনালদোর জীবন!
আগস্ট ২০০৩, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্পোর্টিং সিপির একটি সাধারণ ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হচ্ছিল। এই ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে ছিলেন স্যার আলেক্স ফার্গুসন। ম্যাচে ১৮ বছর বয়সের এক তরুণ ফুটবলার নজর কাড়ল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এই সেরা কোচের, এই তরুণ ফুটবলারটি আর কেও নন আজকের ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রোনালদো। কথা না বাড়িয়েই ফার্গুসন ম্যাচের হাফ টাইমের মাঝেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন, তার এ ছেলেকে ম্যানচেস্টারে চাই ই চাই।
আর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেয়ে গেল তাদের ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম্বার সেভেন কে।
৩. রোনালদো নামটি রাখা হয়েছিল সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান এর নামানুসারে!
‘ক্রিশ্চিয়ানো রুনালদু দুস সান্তুস আভেইরু’ কিছুটা অচেনা লাগলেও এটাই আসলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পুরো নাম। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বাবা আমেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান এর অনেক বড় ভক্ত ছিলেন। তাই তিনি তার ছেলের নামের একটা অংশ তার আইডল এর নাম থেকে রেখেছিলেন। নাম রাখার সময় কি আর ভেবেছিলেন যে একসময় তার ছেলের নাম ও সবার মুখে মুখে ফিরবে!
৪. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেই তৈরি করেছেন নিজের জাদুঘর!
২০১৩ সালে এই ফুটবলার তার জন্মস্থান মাদেইরাতে তার নিজের নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। আপনি অবাক হচ্ছেন কি! অবাক করার মত ব্যাপার হলেও এই জাদুঘরটিতে তার জেতা ১৫০টিরও বেশি ট্রফি সাজিয়ে রাখা আছে! এছাড়াও জাদুঘরটিতে কিছু বাড়তি ঘরও তৈরি করে রাখা হয়েছে তার ভবিষ্যতে জেতা আরও ট্রফি সাজিয়ে রাখার জন্য!
৫. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শরীরে কোন ট্যাটু নেই!
মেসি, নেইমার বা বেকহাম এর মত অনেক বড় বড় ফুটবলাররা শরীরের নানা অংশে ট্যাটু করালেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার শরীরে কোন ধরণের ট্যাটু করান না। তার কারণ তিনি নিয়মিত রক্ত দান করে থাকেন। নিয়মিত রক্ত ডোনেট করে থাকেন বলে তিনি ট্যাটু করান না, কেননা শরীরে ট্যাটু থাকলে অনেক দেশে আপনি যদি রক্ত দিতে চান তবে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
৬. ফ্রী কিকের গতি ঘন্টায় প্রায় ১৩০ কি.মি!
জি আপনারা ঠিকই পড়েছেন! ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি ফ্রী কিকের গতি ঘন্টায় প্রায় ১৩০ কি.মি. এবং তিনি তার দুই পায়েই প্রায় সমান দক্ষতায় ফ্রী কিক নিতে পারেন!
৭. রোনালদো কোন ধরণের অ্যালকোহল পান করেন না!
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর তার বাবাকে হারান মাত্র ২০ বছর বয়সে। তার বাবা জোসে দিনিস আভেইরো ৫২ বছর বয়সে অতিরিক্ত অ্যালকোহল আসক্তির কারণে মৃত্যু বরণ করেন। আর এই কারণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেকে অ্যালকোহল পান হতে বিরত রাখেন।
৮. রোনালদোর নিজের ফ্যাশন বুটিক আছে!
সি.আর.সেভেন নামে নিজের জন্মস্থান মাদেইরাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি ফ্যাশন বুটিক হাউজ আছে।
৯. রোনালদোকে নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান কোর্স!
কানাডায় অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া’ তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে একটি সামাজিক বিজ্ঞান কোর্স চালু আছে!
১০. ক্যারিয়ারের প্রতি মিনিটেই একটি করে গোল!
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এই রেকর্ডটি এক কথায় অসাধারণ। সে তার খেলোয়াড়ী জীবনে যত খেলা খেলেছে তাতে তার গোল সংখ্যা এবং তার মাঠে খেলা টাইম হিসেব করলে দেখা যায় যে, ১ম মিনিট থেকে ৯০তম মিনিট পর্যন্ত প্রতিটি মিনিটেই তার একটি করে গোল করার বিরল কীর্তি রয়েছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ










